image
গাইবান্ধা : গাইবান্ধার রাধাকৃঞ্চপুর গ্রামে মৃৎশিল্পীদের তৈরি রিং স্লাব -সংবাদ

গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীদের জীবন-সংগ্রাম

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

আধুনিকতার ছোঁয়ায় চারদিকে যখন কংক্রিট আর প্লাস্টিকের রিং-এর জয়জয়কার, তখনো গাইবান্ধার স্যানিটেশন ব্যবস্থায় স্বগৌরবে টিকে আছে মাটির তৈরি ‘পাট’ বা রিং। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের কাছে এখনও জনপ্রিয় এই মাটির পাট। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর কুমার পাড়ার মৃৎশিল্পীরা বংশপরম্পরায় ল্যাট্রিনের সেপটিক ট্যাংকের কাজে ব্যবহৃত এই পাট তৈরি করে টিকিয়ে রেখেছেন বাপ-দাদার আমলের এই পেশা। সরেজমিনে রাধাকৃষ্ণপুর কুমার পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ঘরেই এখন কর্মব্যস্ততা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মাটির কাজে মগ্ন। এখানকার কারিগররা সাধারণ হাঁড়ি-পাতিলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করছেন ল্যাট্রিনের বড় আকারের পাট। স্থানীয়রা জানান, এই কুমার পাড়ার কয়েকশ পরিবার কয়েক দশক ধরে এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এঁটেল মাটির বিশেষ মিশ্রণে তৈরি হয় এই পাট। চাকা ঘুরিয়ে আকার দেয়ার পর রোদে শুকিয়ে বিশেষ চুলি বা ‘পায়েন’-এ পোড়ানো হয়। মাটির গভীরের আর্দ্রতায় সিমেন্টের রিংয়ের চেয়ে মাটির পাট দীর্ঘস্থায়ী হয় বলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জেলার গন্ডি পেরিয়ে আশপাশের এলাকাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে এখানকার তৈরি মাটির পাট। তবে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা। মৃৎশিল্পী রামমোহন আক্ষেপ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছি, কিন্তু এখন আর আগের মতো লাভ নেই। উপযুক্ত এঁটেল মাটি পাওয়া কঠিন, পেলেও দাম চড়া। তার ওপর খড়ি ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবুও পেটের তাগিদে পৈতৃক পেশা আঁকড়ে ধরে আছি।’

আরেক কারিগর বিমলা রানী বলেন, এই কাজ ছাড়া অন্য কিছু জানি না, তাই কষ্ট হলেও চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সুখের বিষয় হলো, ইদানীং সিমেন্টের রিংয়ের ভিড়েও মাটির পাটের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে।

স্থানীয় মৃৎশিল্পী সমিতির প্রতিনিধিদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং পুঁজির সংকটই তাদের প্রধান বাধা। তারা বলেন, আমরা পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন সেবা দিচ্ছি। সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা পেলে এই কুটির শিল্পটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

পরিবেশ রক্ষায় মাটির তৈরি উপকরণের গুরুত্ব তুলে ধরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালাম বলেন, ‘জলবায়ু পরির্বুন ও পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বা সিমেন্টের চেয়ে মাটির পাট অনেক বেশি কার্যকর। এই পেশার সঙ্গে যুক্তদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনা দিলে পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাধাকৃষ্ণপুরের নিপুণ কারিগরদের এই লড়াই কেবল জীবিকার নয়, বরং পরিবেশ রক্ষারও। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আনবে টেকসই সমাধান।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» চকরিয়ায় গাড়ির ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিহত

» লালমোহনে শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্প্রতি