টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাশে মেসার্স স্বাধীন বাংলা অটোমেটিক রাইস মিলটি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। রাইস মিলের পিছনে এবং দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে ধুনাইল গ্রাম তিন ফসলি জমির পরিবেশসহ ফসল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এক কিলোমিটারজুড়ে ওই এলাকার মানুষ। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাইস মিলের ফিল্টার ছাড়াই চালানো হচ্ছে মিল। পরিবেশ অধিদপ্তর নিচ্ছে না কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কোনো তোয়াক্কা করছে না রাইস মিলের মালিকরা। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী এবং জনপ্রতিনিধিরা মিলের ত্রুটি ঠিক করে চালানো অথবা মিলটি বন্ধ দাবি জানিয়েছে। বাড়ির আঙ্গিনা জুরে ফলের গাছ থাকলেও এখন আর নারিকেলসহ কোনো ফল আর আগের মতো গাছে ধরছে না। তিন ফসলি জমিতে ফসল আবাদ করলেও পরিপূর্ণভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারছে না কৃষকরা। রাইস মিলের উড়ন্ত ছাইয়ের আস্তরণ জমিতে পরায় বোরো এবং রবি ফসল চাষ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেসার্স স্বাধীন বাংলা অটোমেটিক রাইস মিল থেকে ২০ ফুট দূরত্বেই রয়েছে আবাদি ফসলের ক্ষেত। ফসলের রুগ্ন চেহারা দেখে তাতে স্পষ্ট রাইস মিলের উড়ন্ত ছাইয়ের বিরুপ প্রভাবের ছাপ রয়েছে। আশপাশের গাছপালা ও ঘর বাড়িতে ছাইয়ের আস্তরন জমে পুরো হয়ে গেছে টিনের চাল আর গাছের পাতা। গ্রামে মানুষের বসবাস এখন তাদের নিকট নরক যন্ত্রণা হয়ে উঠছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গ্রামে ঘরে ঘরে শিশু নারী ও বয়স্ক মানুষের মধ্যে চর্মরোগ, হাঁপানি, সর্দি-কাশি লেগেই আছে। রাইস মিলের মালিকরা প্রভাশ শালী হওয়ায় অনেকেই ভয়ে কিছু বলতে পারছে না।
ধুনাইল গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আব্দুল মালেক বলেন, বাবা এহন কাশতে কাশতে মইরা যাই। ইয়নার কারণে রোগ বেমার ছাড়ছে না। পানি কোনো কিছুর মধ্যে রাখলে খাওয়া যায় না। আর মিলের পাশেই আমি সরিষা আবাদ করেছি সরিষা গাছের উপরে মিলের উড়ন্ত ছাই পড়ে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আবুল কাশেমের স্ত্রী রমেছা বেগম বলেন, আমরা ঘর বাড়িতে থাকতে পারি না। বিছানা-পত্র কম্বল, বালিশ ছাইয়ে সব ভইরা যায়। রাইতে ঠিক মতো ঘুমাইতে পারি না। ছোট্ট বাচ্চারা খালি কাশে আর কাশে। আমার ছোট ছেলে সৌদিতে থাকেন নতুন একটি ঘর দিছে অনেক টাকা খরচ করে সে ঘরে ছেলের বউ নাতি-পুতিরা থাকতে পারছে না।
শাহ আলম এ বিষয়ে জানান, মিল মালিকদের আমি একাধিক বার জানিয়েছি তারা বলেন ফিল্টার নষ্ট হওয়ার কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। আমাদের ঘরে ভেতরে সব কিছুই ছাইয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে নতুন টিনের ঘর দিয়েছি এই বিষাক্ত ছাইয়ের কারণে টিনসহ গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। মেসার্স স্বাধীন বাংলা অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম খান জানান, মিলের সাইক্লোন নষ্ট হওয়ার কারণে এই সমস্যা হচ্ছিল এটা ঠিক করা হইছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা মামুন জানান, রাইস মিলের ছাই অনেক বিষাক্ত এগুলো গাছ পালার উপরে পরলে সমস্যা হবে। বিষয়টা সরজমিন দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।