হঠাৎ জ্বালানি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট ও দাম বৃদ্ধির ফলের কাঠখড়ি (লাকরির) দিয়ে জ্বালানো মাটির তৈরি চুলার চাহিদা বেড়েছে। অনেকেই ছুটছেন মাটির চুলা তৈরির কারিগরদের কাছে। কেউ কেউ শখের চুলা বিক্রি করছেন চড়া দামে।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা সদরের কালীবাড়ি পাড়ার গড়াই নদীর চরের বাসিন্দার শখের বসে নদীর পলিমাটি দিয়ে ৫-৬টি চুলা তৈরি করে ছিলেন। কিন্তু রান্নার জ্বালানি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়ার পর থেকে তার কাছে আশে পাশের গৃহিণীরা মাটির চুলা কিনতে আসতে শুরু করে। গত সপ্তাহ থেকে দূরের গ্রামের মহিলারা মাটির তৈরি চুলা কিনতে আসছেন। ক্রেতাদের চাহিদা মতো মাটির তৈরি প্রতিটি চুলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস সংকটের সঙ্গে তার তৈরি চুলার চাহিদা বেড়েছে। তার (শাহিদার) হাতে এখন প্রায় ১০টি চুলার অডার রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরের ১২ কেজি ওজনের গ্যাস সিলিন্ডার ১৪৫০ টাকা থেকে ১৮শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গ্যাসের ডিলার বা খুচরা বিক্রেতার দোকান থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে না। গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভ্যানরিকসায় সিলিন্ডার পৌচ্ছে দিচ্ছেন। এর জন্য আবার গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডার ক্রেতার বাসাবাড়িতে পৌঁচ্ছাতে ১৫০০ থেকে ১৮৫০ টাকা পরছে।
মাটির চুলার কারিগরের কাছে অর্ডার দিতে আসা আছমা খাতুন নামের এক নারী জানান, শুধু গ্যাসের দাম বাড়েনি। বেড়েছে কাঠখড়ির দাম। তবুও রান্না করে খেতে হবে। তাই প্রায় ২ কিলোমিটার দূরের কলেজ পাড়া থেকে চুলার অর্ডার দিতে এসেছেন। যারা চুলা তৈরি করছে তারা এখন চুলার অর্ডার নিতে গরিমশি করছে।
চুলা তৈরির কারিগর শাহিদা জানান, নদীর নিচে থেকে মাটি টেনে আনতে হয়। এ ছাড়া চুলা তৈরির জন্য গুড়ের কুলার মুখ পাওয়া যাচ্ছে না। এক একটা চুলা তৈরি করতে ৪-৫ দিন সময় ব্যয় হয়। যে টাকায় চুলা বিক্রি করা হয় তা দিয়ে হাজিরা হয় না।
শাহিদ আর বলেন, নদীর পলিমাটির তৈরি চুলায় কাঠখড়ি থেকে লতাপাতও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া এই চুলা জ্বালানি স্বাশ্রয়ী হয়। আগুন ভালো হওয়ায় দ্রুত রান্না করা যায়। তার চুলার খরিদ্দারের ভীড় দেখে নদীর তীরের অনেক মহিলারা চুলা তৈরি শুরু করেছে। তারা সবাই চাহিদার সঙ্গে চুলা বিক্রি করছে।
গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী ওলি সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার ডিলারের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়নি। তবে আগের দিন কিছু সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছিল। এখন তারা গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না।