image
চকরিয়া (কক্সবাজার) : ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে গয়াল বা বনগরু দম্পতির ঘরে বেড়েছে ব্যাপক বংশবিস্তার -সংবাদ

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বিলুপ্ত গয়াল দম্পতির ব্যাপক বংশবিস্তার

প্রতিনিধি, চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রতিষ্ঠাকালীন বনগরু বা গয়াল প্রজাতির প্রাণী ছিল না। তের বছর আগে বান্দরবান জেলা জেলা পরিষদ থেকে দুটি পুরুষ গয়াল উপহার হিসেবে দেওয়া হয় সাফারি পার্কে। এরপর ২০১২ সালের দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ দুই পুরুষ গয়ালের সঙ্গিনী হিসেবে দুই স্ত্রী গয়াল (বনগরু) সংগ্রহ করেন।

পরে চার পুরুষ ও স্ত্রী গয়ালকে একত্রিত করে বেষ্টনীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা বেষ্টনীর গণজঙ্গলে নিজেদের মতো করে জীবনযাপন করে। এরই মধ্যে মিলনের মাধ্যমে তের বছরে দুই গয়াল দম্পতি জন্ম দিয়েছে আরও ১৮ গয়াল শাবক। এখন ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বনগরু বা গয়ালের পরিবারে সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে মোট ২২টি।

জানা গেছে, গয়াল একটি বন্য গরু প্রজাতির প্রাণী। যার বৈজ্ঞানিক নাম (বস ফ্রন্টালিস)। চট্টগ্রামে এটি বাইসন নামে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে বনগরু হিসেবে ডাকে সাধারণ মানুষ। দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে গয়াল প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে সুখবর হচ্ছে, পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বেষ্টনীর গনবনজঙ্গলে গয়ালের প্রজনন সক্ষমতা বেড়েছে।

গয়াল একটি তৃণভোজী প্রাণী। এরা সাধারণত হাতির সহবাসী। মানে হাতির পালের সঙ্গেই থাকে। গহিন বনে যেখানে ছোট ছোট ঝোঁপ ও ডালপালা রয়েছে তেমন জায়গা গয়ালের বেশ পছন্দ। এরা সাধারণত একত্রে চলাফেরা করে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গয়াল সাধারণত তৃণভোজী প্রাণী। এরা গহীন জঙ্গলে দলবল নিয়ে চলাফেরা করতে পছন্দ করে। পার্কের গহিন জঙ্গলের ফলমুল, ঘাস ছাড়াও পার্ক কর্তৃপক্ষ সকাল ও বিকালে বিভিন্ন সবজি সরবরাহ করে।

তিনি বলেন, গয়াল অনেকটা গরুর মতো। গয়াল বছরে একবার বাচ্চা প্রসব করে। এক বারে ১টি বাচ্চায় দেয়। এরা সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

চকরিয়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রেঞ্জ কর্মকর্তা) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, গয়াল র্বুমানে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে বিলুপ্তির পথে। বিপরীতে সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মীরা নিবিড় পরিচর্যায় রক্ষণাবেক্ষণ করেছে বলে প্রজনন বাড়ছে। র্বুমানে সাফারি পার্কে শাবকসহ ২২টি গয়াল রয়েছে। গরু প্রজাতির প্রাণী হওয়ায় তাদের জন্য বাড়তি কোন খাবার সরবরাহ করা লাগে না। মূলত গয়াল পার্কের জঙ্গলের লতাপাতা, ঘাস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। জানতে চাইলে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, সাফারি পার্কের প্রতিটি প্রাণীর সুস্থভাবে বেড়ে উঠা, বংশ বিস্তারে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মীরা নিবিড় পরিচর্যা করে আসছেন। এ কারণে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রাণিকুলে বংশ বিস্তার ব্যাপক আকারে বেড়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» চকরিয়ায় গাড়ির ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিহত

» লালমোহনে শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্প্রতি