জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে, যা একদিকে কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, অন্যদিকে মৌমাছির আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকাজুড়ে।
মাদারগঞ্জ উপজেলায় কৃষি প্রদর্শনীর আওতায় ৬৫ জন কৃষক রয়েছে। তাদের মধ্যে এক কৃষক সামিউল ইসলাম সংবাদকে জানান, এ বছর চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষা গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার অবস্থা অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে।
এ বছর শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে সামান্য ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তাহলে এ বছর সরিষা চাষ করে অধিকাংশ কৃষকই ভালো লাভবান হতে পারবেন। অন্যদিকে সরিষা ফুলের সমারোহে মৌমাছির বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় মধু উৎপাদনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় মধু সংগ্রহকারী মৌয়াল বাণীকুঞ্জ গ্রামের হারুনুর রশিদ সংবাদকে বলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হওয়ায় এ বছর মধু সংগ্রহের সুযোগ বেড়েছে। এ ছাড়া দূরদূরান্ত থেকে আসা মৌয়ালরা এ অঞ্চলে এসে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান সংবাদকে বলেন, এ বছর চলতি রবি মৌসুমে মাদারগঞ্জ উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। তিনি সংবাদকে আরও বলেন, প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ৬৬৫০ টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা করে বিক্রি হলে বিক্রয়মূল্য দাড়াবে ৬০ কোটি টাকা। মাদারগঞ্জ উপজেলায় কৃষি প্রদর্শনীর আওতায় ৬৫ জন কৃষক রয়েছে। সেই সঙ্গে ৩ হাজার ৫শত কৃষক কে প্রণোদনা হিসেবে ১ বীজ, ১০ কেজি সার, ১০ কেজি ডিএপি বিতরণ করেছি।
এ বছর সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা ও মধু উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।