পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে চলতি আমন মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা দারুণ খুশি হয়েছে। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে আমন ধানের ফলন দেখে কৃষকের মুখে সোনালী হাসির ঝিলিক দেখা দিয়ে ছিল। ইতোমধ্যে উপজেলার কৃষকরা আমন ধান কাঁটা ও মাড়াই শেষ করেছে। উপজেলার কৃষকরা ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে খুশি হয়েছে। কৃষকরা জানায়, চলতি বছর দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভাল হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি বছরে প্রায় ২১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির আমন ধানের চাষ করা হয়। ধানের ফলন বৃদ্ধির জন্য ফসলি জমিতে প্রয়োজনীয় জৈব সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করায় এই বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং পোকার আক্রমন না হওয়ায় চলতি মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী ফসলি জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করার কারনে ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলে ধান কাটার ধুম পড়ে ছিল। হালকা শীতের আমেজে সকাল থেকে শুরু করে সুর্যাস্ত পর্যন্ত কৃষকদের ধান কাটার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো ছিল। উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতের মৃদু বাতাস মাঠের সোনালী আমন ধানের গোছা দোলা দিয়ে ছিল। ধানের ন্যায্য মূল্য পেলেই কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করছে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। উপজেলার কৃষকরা ক্ষেতে পাকা ধান দেখে বাম্পার ফলন আশা করেছে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া, দক্ষিণ দাসপাড়া, গছানী ও বহরমপুর ইউনিয়ানের বগুড়া গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে মাঠভরা পাকা আমন ধান। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আশা করছেন আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলায় শতভাগ আমন ধান কর্তন করা হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়। মাঠ ঘুরেও এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। তবে অসময়ের বন্যায় বেশ কিছু জমির ফসল ডুবে গেলেও সেগুলো নিয়ে কৃষি বিভাগ চিন্তিত ছিল না। নিচু জমির ধান ডুবে গেলেও বন্যার স্থায়িত্ব কম থাকায় আমন ধানের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের কৃষক মো. আলতাফ হোসেন (৫৮) জানান, তারা সবাই বর্গা চাষি। প্রতি বছর তারা ৪-৫ একর জমি চাষ করছেন। ফসলি জমিতে কীটনাশক, সার, সেচের পানি, শ্রমিকের মজুরি, মজুদ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতের ক্রমবর্ধমান খরচের পর ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষকরা লাভবান হবে। গত মাসের শেষ থেকে শুরু হয়েছে ধান কাটা। বর্তমানে কৃষকরা জমি থেকে ধান বাড়িতে নিয়ে মাড়াইয়ের কাজ করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, চলতি বছর আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা যা ছিল তা ছাড়িয়ে গেছে। ধানের উৎপাদন প্রতি বছর এভাবেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এই বছর কোনো রোগবালাই দেখা দেয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে।