বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে হিমেল হাওয়া শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তে ফসলি মাঠে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ফসলি জমিতে বিঘাপ্রতি ৩-৫ মণ ধান বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের জোয়ার। গত বছরের চেয়ে ১০০ হেক্টর রোপা আমন ফসলি জমি কমে গেলেও ফলন বৃদ্ধিতে কৃষকদের মুখে হাসি।
সরজমিনে রোববার, (১১ জানুয়ারী ২০২৬) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলিয় বাগেরহাট উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রত্যন্ত প্রতিটি গ্রামের মাঠের পর মাঠজুড়ে সোনালি আমন, ফসলের সমারাহ শেষ মুহূর্তে ধান কর্তনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। গত ২ সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত শৈত্যপ্রবাহে ঘর থেকে সাধারণ মানুষ বাহিরে বের হতে শীতে হিমশিম খাচ্ছে, তবুও আমনের ফসল বৃদ্ধিতে মনের আনন্দে প্রতিটি মাঠে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকরা। অনেকে ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ ধান কেটে ঘরে তুলে মাড়াইয়ের কাজ করছেন। এ বছর বিঘাপ্রতি কৃষকরা স্থানীয় জাতের মোটা আমন ফসল পেয়েছেন ১০/১৪ মণ। যেখানে গত বছর একই জমিতে বিঘাপ্রতি ধান পেয়েছে সর্ব্বোচ ৮ মণ। বাজারে প্রতি মণ ধান কৃষক বিক্রি করছেন ১ হাজার বিশ টাকা দরে। বিগত বছরে এদিনে প্রতি মণ ধান বাজারে বিক্রি করেছে কৃষকরা ১৩ শ’ টাকা দরে। এবারে যদিও একটু বাজার দর কম পেলেও ফসল বৃদ্ধির কারণে তা পুষিয়ে উঠতে পেরেছে কৃষকরা। খাউলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিপা বারইখালী গ্রামের কৃষক মিজান আকন তার ৭ বিঘা জমির ৫ বিঘাই আমন ধান কেটে ১১০ মণ ধান ঘরে তুলেছে। আরও ৪০ মণ ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন। গত বছর তিনি একই জমিতে ধান পেয়েছেন ৬০/৬৫ মণ। আব্দুল্লাহ মল্লিক কেচি চালিতাবুনিয়া গ্রাম ৬ বিঘা জমিতে দ্বিগুণ ফসল পেয়েছেন, পূর্ব চিপা বারইখালী গ্রামের খলিল হাওলাদার, ওমর ফারুক, জাকীর আকনসহ এরকম একাধিক কৃষকরা বলেন, এ বছর মাঠে স্থানীয় আমন ধান খুবই ভালো হয়েছে। গড়ে বিঘায় ৪/৫ মণ ফসল বৃদ্ধি হয়েছে। বিগত ৪/৫ বছরে এরকম ফসল তারা পাইনি। কোনো কোনো জমিতে বিঘাপ্রতি ১৬/১৭ মণ ও ধান ফলেছে। কৃষকরা এত ভালো ফসল দেখে তৃপ্তির হাসি দিয়ে বলেন, ফসল ভালো হওয়ার আনন্দটাই অন্য রকম। এ গ্রামের প্রতিটি গৃহের উঠানে ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে।
এদিকে উপজেলার কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় এ বছরে দেশি আমন ও উচ্চ ফলনসীল (উফসি) জাতের ধান ২৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন করেছে কৃষক। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ১৮ হাজার ৭২০ হেক্টর ও উচ্চ ফলনসীল ৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদিত হয়েছে ৫৩ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন। গত বছর কৃষক ২৬ হাজার ৪১৪ হেক্টর জমিতে আমন ধান ফসল ফলিয়ে পেয়েছে ৫৩ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন ধান। এ বছর ফসলি প্রায় ১০০ হেক্টর জমি রোপণ না হওয়া মৎস্য ঘের বৃদ্ধি, ফসলি জমি কেটে বসত বাড়ি নির্মাণ, অতি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় আমন বীজ থাকলেও তা রোপণ করতে পারেনি কৃষকরা। তারপরেও এ বছর ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় জমি কমে যাওয়ার ঘরতি কৃষক পুষিয়ে উঠতে পেরেছে।
এ সম্পর্কে উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমন ফসল উৎপাদনের ৮০ ভাগ ধান ইতোমধ্যে কর্তন করে ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষকরা। ২০ ভাগ ধান মাঠে রয়েছে ২/১ সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ করতে পারবেন কৃষকরা । এ বছরে আমনে কৃষকরা ভালো ফলন পাওয়ার আবহাওয়া অনুকূলে, অতি বৃষ্টির কারণে লবণাক্ততা কমে যাওয়া। জমিতে অতি মাত্রার সার ব্যবহার না থাকায় কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী- সুষম সার ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণে আমনে ভালো ফলন ফলিয়েছে কৃষক। বিঘাপ্রতি ২/৩ মণ ধান বৃদ্ধি হয়েছে।
অপরাধ ও দুর্নীতি: সিলেটে সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ১২