image
ড্রেজিং নেই, পলি জমে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী -সংবাদ

শুকিয়ে যাচ্ছে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও ড্রেজিং হয়নি

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে চর জেগে ওঠার কারণে নদী দুটি ভরাট হয়ে নাব্যতা হারাচ্ছে। যার ফলে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, জেলেরা বিপাকে পড়েছেন। এর কারণ মূলত পাহাড়ের ঢলের সঙ্গে আসা মাটি ও বালু, দখলদারদের প্রভাব এবং দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়া যা নদী অববাহিকার পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। এ সমস্যা সমাধানে নদী অববাহিকা পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক, কারণ নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী ড্রেজিং হয়নি। সাঙ্গু নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জেলা শহরে খাওয়ার পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে। বিপাকে পড়েছে নদী নির্ভর জেলেরা। অবাধে পাহাড় কাটা, বৃক্ষ নিধন ও অপরিকল্পিতভাবে ঝিরি ও নদীর পাড়ে ঘনবসতি গড়ে উঠায়, গতিপথ সরু হয়ে কমে যাওয়ায় দেখা দেয় সাঙ্গু নদীর নাব্যতা সংকট বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুর রহমান সোহেল। এ নেতা মনে করেন, সামান্য বৃষ্টিতে প্রতিবছর তলিয়ে যায় বান্দরবানের জেলা শহরসহ নি¤œাঞ্চল। যা জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে। এতে ক্ষতিগ্রস্তÍ হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসহ স্থানীয়রা। তাই পাহাড় কাটা বন্ধ ও নদীর তীর দখল মুক্ত করার পরামর্শ স্থানীয়সহ ভোক্তভুগীদের। স্থানীয় বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম জানান, স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বান্দরবানের সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদী দুটিতে একবারও ড্রেজিং করা হয়নি। ড্রেজিং না করার কারণে নদীর তলদেশের উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। আবার অনেক জায়গায় সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং নদী ভাঙনের ফলে রাস্তাঘাট নদীতে চলে যাচ্ছে।

এদিকে নদী ভরাট হওয়ায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এতে বিপাকে পরা স্থানীয় জেলেরা জানান, র্দীঘদিন ধরে নদীর মাছ ধরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করে আসছি, কিন্তু মৌসুমে নদীতে বড় বড় চর জেগে উঠায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দেখা মিলছে না। এক সময় সাঙ্গু নদী দিয়ে বান্দরবান জেলার রুমা, থানছি এবং মাতামুহুরী নদীপথ দিয়ে আলীকদম ও লামার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় যাতায়াত করতো স্থানীয়রা। বর্তমানে উপজেলাগুলোতে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলেও এখনও থানছির ছোট মদক, বড়মদকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকাগুলোতে যেতে হয় নৌকাতে। কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু বান্দরবান সাঙ্গু নদীর তীর দখল মুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সাঙ্গু নদীকে কেন্দ্র করে অনেক স্থাপনা রয়েছে বান্দরবানে। উত্তরণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর গভীরতার জন্য সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার দরকার এবং মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলার পরামর্শ দেন এই সাংবাদিক।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, নদীর নাব্যতা হারানোর প্রভাব পড়েছে বান্দরবানের কৃষি উৎপাদনে ওপরেও। পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন কৃষি চাষাবাদে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও সরাসরি সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর উপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ার কারণে কৃষি কাজে পানি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ‘পানির স্তর নিচে নেমে বিভিন্ন ঝিরি ঝর্ণা শুকিয়ে নদীতে পানি শূন্যতা দেখা দেয়, দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার দরকার। বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহাবুবুল ইসলাম বলেনÑ বনাঞ্চল উজাড়, পাহাড় কর্তন, পাথর উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। পাহাড় কর্তন করে, বাড়িঘর ও রাস্তা তৈরিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে কর্তনকৃত মাটি বর্ষায় নদীতে নেমে আসে। ফলে দিন দিন ভরাট হচ্ছে নদীগুলো।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অরূপ চক্রবর্তী বলেন, সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর ড্রেজিংয়ের টেকসই যে নদী ব্যবস্থা প্রকল্প ইতোপূর্বে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ের সবুজ পাতায় তোলা হয়েছে। আবারও নতুন করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং বান্দরবানবাসী সুফল ভোগ করবেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» চকরিয়ায় গাড়ির ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিহত

» লালমোহনে শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্প্রতি