image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

সাঁথিয়ায় রাত ৯টা হলেই চলে যায় গ্যাস চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

প্রতিনিধি, সাঁথিয়া (পাবনা)

রাত ৯টা বাজলেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় পাবনার সাঁথিয়া ও বেড়া পৌর এলাকায়। ভোর ৬টার আগে আর চুলা জ্বলে না। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) আওতাধীন এই এলাকায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে এ অবস্থা চলছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। স্থানীয়রা বলছেন, সাঁথিয়া ও পার্শ্ববর্তী বেড়া পৌর এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পিজিসিএলের আওতাধীন এসব এলাকায় রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। এতে রান্নাবান্নাসহ অন্যান্য কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শত শত পরিবার। এ নিয়ে এলাকার গ্রাহকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাতে বন্ধ থাকলেও দিনের বেলায় ওইসব এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। রাত ৯টার পর সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। পিজিসিএলের গ্যাসের সুবিধাভোগী অনেক গ্রাহক জানান, চার থেকে পাঁচ মাস হলো সাঁথিয়া পৌর এলাকায় রাত ৯টার পরই গ্যাস চলে যাচ্ছে। ফলে রাতে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আগে রান্না করে রাখলে শীতের সময়ে তা বেশি ঠান্ডা হয়ে যায়। সে খাবার গরম করাও সম্ভব হয় না। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে কাঠ, কয়লা বা এলপি গ্যাস ব্যবহার করছেন, যা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। সব মিলিয়ে গৃহিণীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাণিজ্যিক সংযোগ নেয়া গ্রাহকদেরও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রেস্তোরাঁগুলোও পড়েছে বিপাকে। এতে তাদের ব্যবসায় লোকসান বাড়ছে।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) বাঘাবাড়ি রিজিওনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সাঁথিয়ায় ৬১৭ জন আবাসিক এবং আটজন বাণিজ্যিক গ্রাহক পাইপলাইনে গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছেন। এ ছাড়া বেড়ায় এক হাজার ৩৫০ জন আবাসিক ও দুজন বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী সব এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সাঁথিয়া পৌর এলাকায় গ্যাস বন্ধ কেন রাখা হয় তা তাদের বোধগম্য নয়। এই সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।

সাঁথিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা মাসুদা খাতুন বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভালোভাবে রান্না করা গেলেও সন্ধ্যার পর থেকে গ্যাসের চাপ কম থাকে। রাত ৯টা বাজলেই চুলা নিভে যায়। আরেক ভুক্তভোগী গৃহিণী রাহেলা খাতুন বলেন, গ্যাসের বিল ঠিকই দিচ্ছি, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। আগে এমন সমস্যা ছিল না। অনেক দিন হলো প্রায় প্রতিদিন একই অবস্থা।

শালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, পিজিসিএলের উচিত সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা। না হলে কিছুদিন পরপর গ্রাহকদের এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) বাঘাবাড়ি রিজিওনাল অফিসের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, গ্যাসের অপচয় রোধে প্রায় তিন মাস ধরে রাতে গ্যাস বন্ধ রাখা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে গ্যাস সংকট রয়েছে। গ্যাসের অপচয় রোধে প্রায় তিন মাস ধরে রাতে গ্যাস বন্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক গ্রাহক একটি চুলায় একাধিক পরিবারের রান্না করেন। ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা চানাচুরসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক পণ্য ভাজাভাজির কারণেও অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। গ্রাহকদের অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতন করার জন্য মাইকিং করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডিমলায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ ঢাকতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের রহস্যজনক বদলি

সম্প্রতি