মাঘ মাস ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে। বইছে হিমেল হাওয়া। পৌষের বিদায় জানান দিচ্ছে আগমনী মাঘের শীতের তীব্রতা ক্যামন হবে। এমন অবস্থাতেও পল্লীর হতদরিদ্ররা পায়নি শীত নিবারনের গরম কাপড়।
এদিকে খাল বিল, নদী নালায় প্রতিদিন কমছে পানি। শুরু হতে যাচ্ছে বোরো রোপণের মৌসুম। মাছের বসতভূমিতে পানি কমায় প্রতিদিন বাজারে আসছে প্রকৃতির লালিত দেশীয় মাছ। পুকুরের চাষ করা মাছেও বাজার সয়লাব। কিন্তু বাজারে আসা মাছের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে পাইকারি ও খুচরা মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে বলতে গেলে মাছের দাম হাতের নাগালে।
চাষ করা ছোট সাইজের রুই, মৃগেল ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ছোট সাইজের টাকি মাছের দামও এমন। পুটি, ডারকা মাছও ১শ টাকা কেজিতে মিলছে। তারপরেও বাজারে মাছের আমদানির তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম।
পাইকারি মাছ ব্যবসায়ীরা বলছে, এই সময়ে প্রতিদিন খাল, বিল, পুকুরের পানি কমতে থাকে। সামনে চলে আসে বোরো চাষের মৌসুম। ফলে ছোট ছোট পুকুর, নালা এবং নদীতে ধরা পড়ে প্রচুর মাছ। আর এসব মাছ চলে আসে সব বাজারে। শীত মৌসুমে সবজিও মিলে ভালো। এজন্য এই সময়ে অল্প আয়ের মানুষ আমিষের চেয়ে সবজি খেতে ঝুঁকে বেশি। যার কারণে মাছের বাজারে ক্রেতা কম। আর শীতের তীব্রতার কারণে কর্ম এলাকা সংকুচিত হয়। মানুষের হাতে কাজ না থাকলে আয় কমে যায়। একারণে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ কমে। যেসব গৃহস্থ মানুষ পুকুরে মাছ চাষ করছে তারা বোরো মৌসুমে ধান চাষে বিনিয়োগ করতে চাষকৃত মাছ বিক্রি করে হাতে টাকা রাখে। এক্ষেত্রে তারা লাভ ক্ষতির হিসাব করছে না।
কথা হয় মাছ চাষি আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তাদের মতো নিম্নবিত্ত চাষিরা এক মৌসুমের ফসল দিয়ে পরের মৌসুমের ফসল চাষ করে। এতে করে তারা লাভ ক্ষতির হিসাব খাতায় তুলে না। তাদের সাফ কথা কৃষি করে খেতে হলে প্রতি মৌসুমেই চাষাবাদ করতে হবে। তার মতে গতর খাটিয়ে যা আসে সেটাই তাদের মুনাফা। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, নি¤œবিত্ত কৃষকরা কোনো ফসল চাষ করে তেমন লাভের মুখ দেখেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, এই মৌসুমে শীতের তীব্রতায় পুকুরে মাছ ধরার জন্য জেলে পাওয়া যায় না। পুকুরের বরফশীতল পানিতে সহসাই কেউ নামতে চাইছে না। এজন্য বাড়তি মজুরি দিয়ে মাছ ধরতে হয়। এর ফলে মজুরি শোধ করতে মুনাফার অংশ চলে যায়। কিন্তু প্রয়াজনের সময় এতে লাভ ক্ষতির অঙ্ক কষে লাভ নেই।
খুচরা মাছ ব্যবসায়ী সাগর মহন্ত বলেন, সকালে কনকনে ঠান্ডায় পাইকারি মাছ বাজারে এসে মাছ কিনে বিক্রি করতে বসি। অন্যান্য সময় দুপুর ১২টার মধ্যে বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়। অথচ এই শীত মৌসুমে মাছ বাজারে মানুষ আসে বেলা ১১টার পর। সন্ধ্যা অবধি মাছ বিক্রি হয় না। অন্য সময়ের চেয়ে দামেও সস্তা। তার মতে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মেঘাচ্ছন্ন তীব্র ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে কর্মজীবী হতদরিদ্র মানুষরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। শীত থেকে বাঁচতে নেই তাদের ঘরে তেমন গরম কাপড়। কোনরকমে পুরাতন কাথা কম্বল জড়িয়ে রাত্রিযাপন করছে। শীতের দাপটে এসব মানুষ প্রায় সময় নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে বলে একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
কথা হয় বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছর শীত মৌসুমে তার ইউনিয়নে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই শীত মৌসুমে এ যাবত সরকারের পক্ষ থেকে সুতা পরিমাণ শীতবস্ত্র মিলেনি। প্রতিদিন হতদরিদ্র মানুষরা পরিষদে আসছে। কিন্তু তাদের সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি দ্রুত এমন সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নেক দৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন।
কথা হয় নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে শীতবস্ত্র দেয়া হচ্ছে না। তবে ইউএনও, পিআইও ও ট্যাগ অফিসারদের মাধ্যমে বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র দেয়া হচ্ছে।
অর্থ-বাণিজ্য: সংকট কাটাতে বাকিতে এলপি গ্যাস আমদানির সুযোগ
অর্থ-বাণিজ্য: ডিএসই’র সূচক থেকে বাদ ১৬ শেয়ার, যুক্ত হচ্ছে ৯টি
অর্থ-বাণিজ্য: সব ব্যাংকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানোর নির্দেশ
অর্থ-বাণিজ্য: শেয়ারবাজারে লেনদেন নামলো ৩০০ কোটির ঘরে
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: খিলগাঁওয়ে সাজগোজ এর নতুন আউটলেট উদ্বোধন