image
পলাশ (নরসিংদী) : বাজারে কলা বিক্রির জন্য বসে আছে ব্যবসায়ীরা -সংবাদ

পলাশে জমজমাট শত বছরের পুরনো চরসিন্দুর কলারহাট

প্রতিনিধি, পলাশ (নরসিংদী)

কলা প্রকৃতির এমন এক উপহার, যা স্বাদে রঙে পুষ্টিগুণে ভরপুর। স্বাস্থ্যকর বিধায় কলা বাঙালীর প্রিয় একটি ফল। আর এই মনকাড়া কলা পলাশ উপজেলায় চাষ হয় ব্যপকহারে। উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে সপ্তাহে দুদিন হাটবার এলেই সরগরম হয়ে উঠে। প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবারে সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চরসিন্দুর বাজারে কলা হাট বসে। দুপুর গড়াতে গড়াতেই বেচাকেন শেষ শতশত কলাচাষি তাদের উৎপাদিত কলা ছড়া নিয়ে আসে কলার হাটে। খুচরা বিক্রেতা, পাইকররা আসে কলা কিনতে। শুধু এলাকার ক্রেতা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পাইকররা আসে ট্রলি, ভ্যান বা ট্রাক নিয়ে কলা ক্রয় করতে। কলা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে পুরো এলাকা। দেশের অন্যান্য জেলার ব্যাপারীরা এ হাট থেকে কলা কিনে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে থাকেন। চরসিন্দুর বাজারের কলার হাটটি প্রায়ই ২০০ বছরের বেশি আগের পুরনো হওয়ায় কলার হাট ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছে বেশ পরিচিত। পলাশ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, পলাশে চলতি মৌসুমে ৩৯১ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে বেশি। ধারণা করা হচ্ছে ১৫০০০ মেট্রিক টন কলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন এই বছর পলাশ উপজেলায়, জমিতে অমৃত সাগরকলা১১৬ হেক্টর জমিতে অমৃতসাগর কলা, চাপা কলা ১১৮ হেক্টর, কবরী ৬০ হেক্টর, এঁটে কলা ২ হেক্টর, গেড়া শংকরি ৬০ হেক্টর ও অন্যান্য ৩৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। তবে অমৃত সাগর কলার জন্য এ উপজেলা বিখ্যাত। কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান আমরা কলা চাষিদের বিভিন্ন সময়ে কলাচাষের সুফল পেতে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, রোগবালাই প্রতিকারে কথা বলি, সঙ্গে থাকে নিবীড় পর্যবেক্ষণ আমাদের। এ ছাড়া জি-নাইন টিস্যু কালচার-১ জাতিয় কলা চাষে কলাচাষিদের উদ্বুদ্ধ করি। কারণ এই জাতটা বেশি ফলনশীল ও লাভবান। এ বছর এক হেক্টর জমিতে জি-নাইন কলা চাষ করা হয়েছে।

কলা চাষি মো. ফয়সাল উদ্দিন বলেন, চলতি বছর আমি ১১ একর জমিতে কলা চাষ করেছি। এ বছর দামটাও ভালো পাচ্ছি। প্রতি কাঁদি কলা তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা বিক্রি করেছি। কলা চাষ করে ভালো লাভবান হয়েছি। ব্যাপারীরা জানান, প্রতি কাঁদি কলা দুইশ থেকে পাঁচশ টাকায় বিক্রি হয়। ছোট আকারের কলা প্রতি কাঁদি দেড়শ টাকা, মাঝারি আকারের কাঁদি তিনশ টাকা, বড় আকারের কাঁদি সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ টাকায় বিক্রি হয়। ফর্মালিন মুক্ত এবং একদম দেশি কলা বেশি বিক্রি হয়।

চরসিন্দুর বাজারে ঢাকা হতে আগত পাইকারি ক্রেতা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চরসিন্দুর কলার বাজার আমি ছোট থেকেই দেখছি বাবার সঙ্গে এসে। এখন আমি নিজেই আসি ট্রাক নিয়ে কলা ক্রয় করতে। ব্যবসায়ি সুফল দাস বলেন চরসিন্দুর ইউনিয়ন, শিবপুর ও কালিগঞ্জ উপজেলার কলা চাষিরাও কলা বিক্রি করতে আসে এখানে। এ কলার বাজার আমাদের ঐতিহ্য। কলার মান ভালো হওয়ায়, বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ব্যাপারিরা এসে এ বাজারে কলা ক্রয় বিক্রয় করে থাকে। চরসিন্দুর কলার বাজারের আরেকজন ব্যবসায়ি বলেন, এ অঞ্চলের কলার সুনাম থাকায় দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কলা কিনে থাকেন। মূলত কলাচাষি ও ছোট ব্যবসায়ীরা এ হাটে কলা আমদানিকরে থাকেন। সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার এ হাট বসে। আশে পাশের সকল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দিনদিন এ হাট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিহাটে এ বাজারে প্রায় ৩০ লাখ টাকার কলা বেচাকেনা হয়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডিমলায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ ঢাকতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের রহস্যজনক বদলি

সম্প্রতি