image

কর্ণফুলীতে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রতিনিধি, পটিয়া

কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে মিজান প্রকাশ পুলিশ মিজানের বিরুদ্ধে পুলিশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শিল্প কারখানায় ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কর্ণফুলীসহ নগরীতে রয়েছে সোর্স মিজানের একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে বলে কর্ণফুলী উপজেলার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিএমপির কর্ণফুলী থানা ও ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে প্রতি মাসে বিভিন্ন গাড়ি স্ক্র্যাপের দোকান, অবৈধ ও চোরাই তেলের দোকান থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে পুলিশের সাবেক কনেস্টবল মিজান প্রকাশ পুলিশ মিজান ও তার শ্যালক জুবায়ের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। কর্ণফুলীর কলেজ বাজার থেকে নতুন ব্রিজের টোলপ্লাজা পর্যন্ত তারা চাঁদাবাজি করে আসছে। টেকনাফ ও বান্দরবান থেকে আসা বৈধ অবৈধ কাঠবাহী গাড়ি, ফার্নিচারের গাড়ি, ঝাড়ুর গাড়ি প্রতি ৩শ থেকে ৫শ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত রাতে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা নিচ্ছে সিন্ডিকেটটি। এছাড়া ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কর্ণফুলী উপজেলার বদলপুর, ডায়মন্ড, বাংলাবাজার, ব্রিজঘাট থেকে স্ক্র্যাপের দোকান, তেলের দোকান ৩শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।এ সবগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে কর্ণফুলী থানার ক্যাশিয়ার মেছবাহ। দীর্ঘদিন ধরে এ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে গাড়ি চালকরা। এদিকে চাঁদাবাজির ফলে পুলিশ মিজানের শ্যালক জুবায়েরকে সম্প্রতি চাঁদাবাজি করতে গিয়ে উত্তেজিত জনতা আটক কওে গণধোলাই দেন। পরে স্থানীয় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাশিয়ার ও সোর্স পরিচয়ধারী চাঁদাবাজরাই নিয়ন্ত্রণ করছে কর্ণফুলী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের মাদকের কারবার, জুয়ার আড্ডা, দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ অপরাধের নানা ক্ষেত্র। এর ফলে অপরাধ প্রবণতাসহ মাদক আর জুয়ার আসর বন্ধ হচ্ছে না। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ক্যাশিয়ার, কখনও নৌ পুলিশ, কখনও থানা-পুলিশ, কখনও কোস্টগার্ডের ক্যাশিয়ার, কখনও আবার ফাঁড়ি পুলিশের ক্যাশিয়ার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার এমন নানা পরিচয় দিয়ে বেড়ায় চক্রটি। আর এসব ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে ওরা চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানার বিভিন্ন স্পটে চাঁদাবাজি করছে। এছাড়াও সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে কালাম মেম্বারের হয়ে তিন সোর্স তারা হলেন- বিলাই জাহাঙ্গীর, এরশাদ ও নুরুল আবছার মাঝি। এই তিনজন উপসোর্স বা উপ-ক্যাশিয়ার পরিচয়ে চাঁদা তোলেন।

অনেক সময় এরা এলিট ফোর্সের সোর্স বা ক্যাশিয়ার পরিচয় দিয়েও সুবিধা আদায় করেন বলে অভিযোগ। আর চাঁদা হিসেবে তোলা টাকার একটা অংশ কালাম মেম্বার প্রতি মাসে সঠিক সময়ে ওপর মহলে পৌঁছে দেন বলে জানায়। এছাড়া কোস্টগার্ডের ক্যাশিয়ার পরিচয়ে মো. জহির ও ফরিদ নামে দুই ব্যক্তি। বন্দর ফাঁড়ির ক্যাশিয়ার পরিচয়ে আকবর ও সাত্তার নামে দুই চাঁদাবাজ। নতুন করে শিকলবাহার শুক্কুরের নামও রয়েছে তালিকায়।

চরপাথরঘাটার এক ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, মিজানসহ আরও কয়েকজন আমার দোকানে এসে পুলিশের ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা দাবি করেন, টাকা না দিলে পুলিশকে দিয়ে মামলার ভয় দেখান, থানার পরিচিত একজন অফিসারের সঙ্গে বিষয়টি আলাপ করার পর উনাকে বেঁধে রাখতে বলেন। অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য পুলিশের সোর্স মিজানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনূর আলম জানান, যদি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কোন ব্যক্তি সাধারণ মানুষ থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে উনার নাম এবং ঠিকানা দিলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে, মিজান নামের কোন ব্যক্তিকে চিনে না বলে দাবি করেন তিনি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডিমলায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ ঢাকতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের রহস্যজনক বদলি

সম্প্রতি