আইন, নৈতিকতা ও চিকিৎসা পেশার সব সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ আলী নোমানের বিরুদ্ধে। পরকীয়া, ৬০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, চরম নারী নির্যাতন এবং বেআইনি আটকের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এলেও তার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৩ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে ডা. নোমান সরকারি পদে বহাল রয়েছেন। অভিযোগের চাপ সামাল দিতে তাকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরিয়ে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে একদিকে ডিমলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে একজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নীরবতা আইনের শাসন ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ভুক্তভোগী স্ত্রী মোছা. মোনতাসির মোকাররমা বিল্লা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ৬০ লাখ টাকা যৌতুকের চাপ দেয়া হয়। দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় এক বছর ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নিপীড়ন এবং একাধিকবার বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, বিয়ের আগ থেকেই অভিযুক্ত চিকিৎসক একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হতো। নিয়মিতভাবে বাসায় বহিরাগত নারীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হতো এবং প্রতিবাদ করায় তাকে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়- যা মানবাধিকার ও প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে অভিযুক্ত চিকিৎসক আদালতের মাধ্যমে একতরফা তালাক দিয়ে নারী নির্যাতনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নির্যাতনের পর তালাক প্রদান ভুক্তভোগী নারীকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়ার শামিল, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী গুরুতর ও অজামিনযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩২৩ (মারধর), ৩৪২ (বেআইনি আটক) ও ৫০৬ (ভীতি প্রদর্শন) ধারায় একাধিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
একজন দায়িত্বশীল সরকারি চিকিৎসকের মাধ্যমে এমন কর্মকা- রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও চিকিৎসা পেশার নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের প্রতিফলন।
এ বিষয়ে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি অভিযোগ সম্পর্কে অবগত। তিনি দাবি করেন, ডা. মোহাম্মদ আলী নোমান তার স্ত্রীকে ১৩ লাখ টাকা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে তালাক দিয়েছেন। তবে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনা হয়নি- এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অভিযুক্ত ডা. মোহাম্মদ আলী নোমান, নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি জানান, বিয়ের পর হতেই আমার স্ত্রী আমার কর্মস্থলে গিয়ে রুগী ও হাসপাতালের স্টাফদের সামনে খারাপ আচরণ করে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করে প্রায় দিনই। এমনিকি রোগীদের সামনেই আমার গায়ে হাত তুলেছে। আমি তার আচরণে অতিষ্ট হয়ে উঠেছি। নিরুপায় হয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে তালাক প্রদান করেছি।
ভুক্তভোগীর পিতা মো. মোনতাসির বিল্লা, ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বলেন, ‘৬০ লাখ টাকা যৌতুক না দেয়ায় আমার মেয়েকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তথাকথিত তালাকের কোনো বৈধ কাগজপত্র আমরা এখনো পাইনি। পরিবারসহ আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, একজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ অভিযোগে প্রশাসনিক নীরবতা স্বাস্থ্যখাত ও রাষ্ট্রীয় সেবার ওপর জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ করছে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত চিকিৎসকের গ্রেপ্তার, সাময়িক বরখাস্ত, নিরপেক্ষ তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় শাস্তি এবং ভুক্তভোগী নারীর সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. মো. রাশেদুজ্জামান জানান, ডা. মোহাম্মদ আলী নোমানকে গত ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে বদলি করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অর্থ-বাণিজ্য: সংকট কাটাতে বাকিতে এলপি গ্যাস আমদানির সুযোগ
অর্থ-বাণিজ্য: ডিএসই’র সূচক থেকে বাদ ১৬ শেয়ার, যুক্ত হচ্ছে ৯টি
অর্থ-বাণিজ্য: সব ব্যাংকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানোর নির্দেশ
অর্থ-বাণিজ্য: শেয়ারবাজারে লেনদেন নামলো ৩০০ কোটির ঘরে
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: খিলগাঁওয়ে সাজগোজ এর নতুন আউটলেট উদ্বোধন