image
গজারিয়ায় মেঘনা নদী সংলগ্ন একটি গ্রাম -সংবাদ

মেঘনায় ভাঙন ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ ও অবৈধ বালু তোলা বন্ধের দাবি

শেখ নজরুল ইসলাম, প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)

মেঘনার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে টেকসই বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। চারদিকে নদীবেষ্টিত কৃষিপ্রধান এই উপজেলাটি বর্ষাকাল এলেই ভাঙনের মুখে পড়ে।

বিশেষ করে মেঘনা নদীসংলগ্ন হোসেন্দী ও গজারিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভাঙন এই উপজেলার বড় সমস্যা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীর মিলনস্থলের খরস্রোতা প্রবাহ, বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি, বন্যা এবং নদীর তীর ঘেষে অবৈধ বালু উত্তোলন এই ভাঙনের কারণ।

স্থানীয় বাসিন্দা জহির মিয়া সংবাদকে বলেন, ‘প্রতি বর্ষায় এই এলাকার মানুষ নতুন করে আতঙ্কে পড়েন। নদীর পানি ফুলে উঠলেই স্রোতের চাপ বেড়ে যায়, আর তখনই শুরু হয় পাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা। বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানো গেলেও স্থায়ী সমাধান নেই।’

সরেজমিনে ইসমানীর চর, কাজীপুরা, গজারিয়াসহ নদীসংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরই বর্ষায় মেঘনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েন তারা। স্থানীয়রা জানান, মেঘনার ভাঙনে হোসেন্দী, বলাকী, ইসমানীর চরসহ আরও কয়েকটি গ্রামের অনেক পরিবার মেঘনার ভাঙনে তাদের জমি, ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে টেকসই বাঁধ নির্মাণে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত ধীর। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কায় থাকেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বালুর বস্তা ফেলে ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে স্থানীয়ভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষ চেষ্টা করলেও তাতে বিশেষ লাভ হচ্ছে না। বর্ষাকাল আসার আগে ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানে ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে টেকসই, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গজারিয়ার এক বাসিন্দা সংবাদকে বলেন, ‘প্রভাবশালী মহল রাতে ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে নদীতীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করে। এতে পরবর্তীতে নদীর পাড় নরম হয়ে ভেঙে যায়। তাদের প্রতিরোধ করার কেউ নেই।’ তিনি বলেন, ‘ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।’

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডিমলায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ ঢাকতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের রহস্যজনক বদলি

সম্প্রতি