পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বারি-১২ বেগুন চাষ করে উদ্যোক্তা কৃষক মো. হেমায়েত সফলতা অর্জন করেছে। এই বেগুন চাষ করে ফলন ভালো হওয়ায় সে বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছে। উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হেমায়েত পেশায় একজন সাধারণ কৃষক ছিল। কৃষিপণ্য উৎপন্ন করেই পরিবারের ভরণপোষণ করে থাকে। তিনি নতুন নতুন সবজি চাষে সব সয়ই নিজেকে বিভিন্ন সময় ব্যস্ত রাখেন।
উপজেলায় শীতকালীন সবজির চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে। তার সবজি চাষে আগ্রহ বেশি। এই কৃষক প্রায় ১ বিঘা জমিতে বারি-১২ জাতের বেগুন চাষাবাদ করেছেন। প্রতিটি বেগুনের গড় ওজন প্রায় ৯শ থেকে ১ হাজার গ্রাম। মো. হেমায়েত বলেন, আমি একজন সবজি চাষি। শীত মৌসুমে বিভিন্ন সবজি ফলিয়ে থাকি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারি-১২ বেগুন চাষাবাদ দেখি এবং চাষের জন্য মন স্থির করি। এই বেগুন প্রায় এক থেকে দেড় কেজি হয়ে থাকে। আমি প্রথমবার এই বেগুন চাষ করি আধা একর জমিতে ভালো ফলন পাই এবং বাজারের চাহিদা ব্যাপক তাই এই বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে শতাধিক চারা এনে এক বিঘা জমিতে রোপণ করি। এই বছর গাছের ফলন অধিকতর ভালো আশা করছি।
আমার বেগুন বিক্রি করতে বাজারে যেতে হয় না। পাইকাররা আমার ক্ষেত থেকে এসে নিয়ে যায়। এই বেগুন খুবই সুস্বাধু তাই বাজারে এর চাহিদা বেশি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও তদারকি করে থাকেন। বেগুনের গাছে এই বছর কোনো রোগবালাই নাই। আমি বেগুন বাজারজাত শুরু করেছি। এখন বাজারে ৮০ টাকা প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি করছি। আমার বেগুন ক্ষেত দেখতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সবজি চাষিরা আসছে। আমার মনে হয় আগামী বছর উপজেলায় অনেক চাষিরা এই বেগুন চাষ করবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, বারি-১২ বেগুন এই প্রথম নয়। উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের যুব কৃষক সবজি চাষি মো. হেমায়েত বেগুন চাষ করে সফলতার পেতে যাচ্ছে। এই বেগুন আকারে বড় হয়, খেতে সুস্বাধু ও মজাদার। এই বছর তার ক্ষেতে ফলন অধিকতর ভালো। এই প্রথম বারে দশমিনা উপজেলায় বারি-১২ বেগুন উৎপাদনের জন্য সফল সবজি চাষি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপজেলায় মো. হেমায়েতের বেগুন ক্ষেত দেখে আগামীতে বেগুন চাষে চাষিরা ব্যাপক আকারে চাষ করার আগ্রহ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারাদেশ: কলাপাড়ায় ট্রাকের চাপায় বাইকচালক নিহত