ডিমলায় কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীসহ ৪ জন কারাগারে

প্রতিনিধি, ডিমলা (নীলফামারী)

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। কলেজপড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে রক্ষা করতে গিয়ে উল্টো ধর্ষিতা ও তার পরিবারের ৪ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ডিমলা উপজেলার টেপা খড়িবাড়ি ইউনিয়নের জটুয়া খাতা (কলোনীপাড়া) গ্রামের হাবেল মিয়ার কন্যা, এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. হামিদা আক্তার (১৯) গতকাল সোমবার রাতে নিজ বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ে ধর্ষণের শিকার হন। অভিযুক্ত আলী হাসান (২৩) একই ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ির তেলীর বাজার এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে এবং বর্তমানে ঢাকা সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত একজন সেনাসদস্য।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ তিন বছর ধরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও ঘটনার রাতে দেখা করার কথা বলে মো. আলী হাসান হামিদাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় হামিদার মা মো. রহিমা বেগম ঘটনাটি দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে। পরে রাতভর সালিশ ও সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভোররাতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. তছলিম উদ্দিনের নাম ও সিল ব্যবহার করে তার প্রতিনিধি এবং উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব মো. মাজেদ পাটোয়ারী ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের নাটক সাজান। অভিযুক্তের পিতা দেলোয়ার হোসেনকে দিয়ে একটি সুপারিশকৃত এজাহার তৈরি করে তা থানায় দাখিল করা হয়।

অন্যদিকে ধর্ষিতার চাচা মো. রোস্তম আলী প্রকৃত ঘটনার বিবরণ দিয়ে ডিমলা থানায় পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ডিমলা থানার ওসি মো. শওকত আলী সরকার ধর্ষণকারীর পক্ষে দাখিলকৃত অভিযোগ আমলে নিয়ে উল্টো ধর্ষিতা মমোছা. হামিদা আক্তারসহ তার পরিবারের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেন এবং অভিযুক্ত আলী হাসানকে ‘অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার’ দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ধর্ষিতা মোছা. হামিদা আক্তার (১৯), গাজিউর রহমান (৫০), মো. আবুল হোসেন (৫৫) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৬)।

ডিমলা থানার মামলা নং-১০, তারিখ ১৩/০১/২০২৬। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনী সময়ে একজন প্রার্থীর প্রতিনিধি সরাসরি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করায় এটি নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিমলা থানার ওসি মো. শওকত আলী সরকার বলেন, সেনাসদস্যের পিতা দেলোয়ার হোসেনের দাখিলকৃত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নেয়া হয়েছে। সুপারিশকৃত অভিযোগ নথিভুক্ত করার কোনো বিধান না থাকায় তা সংশোধন করে নতুন এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» শেরপুর-সোনামুখী সড়কে আবারও ফিরল সিএনজি

সম্প্রতি