মানিকগঞ্জ পৌরসভার পৌলি এলাকায় মুদি দোকানি নুরজাহান বেগমকে হত্যার ঘটনায় মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার রাত আড়াইটার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ শালজানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোশাররফ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পৌলি এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১০ জানুয়ারি রাতে নুরজাহান বেগম মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েন। পরেরদিন থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়ে কাজল রেখা জানেন ঘর বাইরে থেকে তালা দেওয়া।
রোববার সারাদিন খোঁজাখুজির পর রাতে বাড়িতে গিয়ে দেখেন ঘরের বাতি জ্বলছে। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন নুরজাহান বেগমের মরদেহ পরে আছে। এ ঘটনায় তার মেয়ে কাজল রেখা বাদী হয়ে মামলা করেন।
পুলিশের অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন নিয়মিত নুরজাহান বেগমের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নিতেন। মোশাররফের অভিযোগ নুরজাহান ন্যায্য দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম খাতায় লিখে রাখতেন। আর নুরজাহান বেগমও তাকে টাকা পরিশোধে চাপ দিচ্ছিলেন। পাশাপাশি তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশ্যে ‘অপমানজনক’ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম বলেন, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে মোশাররফ ১০ জানুয়ারি রাতে নুরজাহান বেগমের বাড়িতে ঢুকে কাঠের পিঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে ওড়না ও কাথা দিয়ে শ্বাসরোধ করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কারেন্টের তার গলায় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।
সারওয়ার আলম বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনায় ভিকটিমের ব্যবহৃত কানের দুল ও অন্যান্য জিনিসপত্র আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। মোশাররফকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মহরম আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন, মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম হোসেন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।