দুমুখী লড়াইয়ে ৪৮, নওগাঁ-৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। জনসংযোগে ব্যস্ত বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে, শুনছেন তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা, দিচ্ছেন জনগণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। একই আসন থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টি-জেপি, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর প্রার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, কারও ক্ষমতার যাওয়ার সিঁড়ি হতে চান না তারা।
নওগাঁর জেলার মহাদেবপুর ও বদলগাছী এই দুই উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ৪৮, নওগাঁ-৩। এই দুই উপজেলা মিলে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের এ আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পর পর দুই বার ভোট দিতে না পারা ভোটারদের মনোভাব বুঝতেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে প্রার্থীদের।
নওগাঁ-৩ এর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. ফজলে হুদা বাবুল যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। শুনছেন এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সমাধানেরও।
ফজলে হুদা বাবুল বলছেন, বিজয়ী হলে শিক্ষক নিয়োগ কনো টাকার বিনিময়ে হবে না। শিক্ষাঙ্গণ করবেন রাজনৈতিক মুক্ত। এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করবেন বন্ধ। রাজনৈতিকে কোন দুর্নীতি থাকবেনা, প্রশাসনকে করবেন দুর্নীতি মুক্ত। এই আসনে থাকবে না কোন বেকারত্ব, তৈরি করা হবে বেকারত্বদের জন্য কর্মসংস্থান। যতদিন শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেনা ততদিন দেওয়া হবে শিক্ষিত বেকারভাতা। কৃষিতে ঘটাবে বিপ্লব। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের যেন নায্য মূল্য পান সেই ব্যবস্থা করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হবে। ছোট যমুনা নদীকে খনন করে সব সময় পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করবেন তিনি।
এই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, এখানে আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির ফজলে হুদা বাবুল। জামায়াত প্রার্থী জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিভিন্ন রকমের। বিজয়ী হলে এলাকা থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করবেন তিনি।
এই আসনে বড় দুই দলের প্রার্থীর পাশাপাশি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে প্রার্থী নাসির বিন আজগর। জামায়াত জোটে এখন পর্যন্ত আসন সমঝোতা না হওয়ায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাসির বিন আজগর বলেন, সমঝোতার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবে না ইসলামী আন্দোলন। জনগণের ভোটে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা তার।
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফিন সিদ্দিকী জনি। আপিলে মনোনয়ন বৈধ হলে ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াতে পারেন তিনিও। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জনি গ্রুপের লোকজনদের।
গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁ-৩ আসনের বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীরা। দুমুখী লড়াইয়ে শেষ হাসিটা কার, তার অনেকটাই নির্ভর করছে ১৭ বছর ধরে হওয়া তরুণ ভোটারদের ওপর।
অপরদিকে, ফজলে হুদা বাবুলের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন এই দুই উপজেলার হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারের লোকজন। প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন ধানের শীষে ভোট দেয়ার।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজির প্রি-অর্ডার শুরু
অপরাধ ও দুর্নীতি: জয়পুরহাটে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার