image
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মজুদ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার -সংবাদ

রাঙ্গুনিয়ায় গ্যাস সংকট কাটছেই না, ভরসা বৈদ্যুতিক চুলা

প্রতিনিধি, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি জীবনে বর্তমানে এক বিভীষিকার নাম গ্যাস সংকট। বিস্ময়কর ও দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, গ্রাহক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি টাকা দিতে রাজি থাকলেও মিলছে না প্রয়োজনীয় গ্যাস। এই পরিস্থিতি কেবল জনভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নেয়নি বরং ভোরে কাজে বের হওয়া কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার তৈরি করতে প্রয়োজনীয় এলপিজি সিলিন্ডার এবং লোডশেডিং এর কারণে বৈদ্যুতিক চুলাও জ্বলছে না সময়মতো, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা থাকলেও খুচরা দোকানগুলোতে মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার। কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। তাছাড়া বিকল্প বৈদ্যুতিক চুলার থাকলেও চড়া মূল্যের বিদ্যুতের ইউনিট থাকলে উপায় না দেখে ব্যবহার করতে চাইলেও ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে সময় মত রান্না করতে না পারায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষগুলো। ফলে নিম্নবিত্ত মানুষেরা লাকড়ি চুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না ফলে অনেকে রান্নার চুলা জ্বালাতে পারছেনা। গ্যাস না থাকায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হােটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।

উপজেলার নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক গ্যাস ডিলার বলেন, দেশজুড়ে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বাড়তি ভোগান্তির কারণ বিক্রির ক্ষেত্রে কমিশন বৃদ্ধি, বিইআরসির একতরফা দাম ঘোষণা বন্ধ করাসহ ছয় দফা দাবিতে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান ডিলাররা দোকানে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন না। ফলে সিলিন্ডার থাকলেও ভরার মতো গ্যাস নেই। কেউ কেউ বড় দোকান বা আড়ত থেকে বেশি দামে এনে বিক্রি করছেন, তবে রসিদ না থাকায় অনেকেই বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তাছাড়া আমরা ক্রেতাদের বিভিন্ন বিব্রতকর প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি প্রতিনিয়ত।

উপজেলার পৌর এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, উপজেলার পৌরসভা এলাকাসহ আরো বেশ কিছু এলাকায় লাইনের গ্যাস আছে, আমার বাড়িতে লাইনের গ্যাস থাকলেও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গত ছয় মাস ধরে প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বিনা নোটিশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে। এতে করে বাধ্য হয়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়। এবার একই ভোগান্তি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারেও পোহাতে হচ্ছে। এখন তো টাকা দিয়েও গ্যাস পাচ্ছি না। বাজারে কোথাও সিলিন্ডার নাই।

এদিকে সাধারণ মানুষ মনে করেন সিলিন্ডার গ্যাস কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া প্রবেশ মুখের ক্ষেত্রবাজারে খালি সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরতে দেখা যায় চাকরিজীবী ইমরান হোসেনকে। বাজারের অলি গলিতে কিংবা আশপাশের এলাকায় অন্তত ১০-১২ জন খুচরা ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও আকাশ ছোঁয়া মূল্যের কারণে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি।

এলপিজি সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা দাম বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুন্ধ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি