image
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : ফার্নিচার প্যাভিলিয়ন -সংবাদ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ফার্নিচার শিল্পের সমারোহ

প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আয়োজন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-এ এ বছর বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ফার্নিচার শিল্প। মেলার পার্মানেন্ট স্ট্রাকচারে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে দেশীয় ও আধুনিক নকশার ফার্নিচারের বাহারি স্টল। কাঠ, বোর্ড, মেটাল ও ইকো-ফ্রেন্ডলি উপকরণে তৈরি নান্দনিক আসবাব মেলায় আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।

মেলায় অংশ নেয়া আক্তার ফার্নিচার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলস দোলাল রায় জানায়, এ বছর আধুনিক জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিনিমাল ও মাল্টি-ফাংশনাল ফার্নিচারের চাহিদা বেশি। ছোট ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ভাঁজ করা খাট, স্টোরেজ সুবিধাসহ সোফা, মডুলার কিচেন ক্যাবিনেট এবং স্মার্ট ওয়ার্কস্টেশন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী নকশার কাঠের খাট, আলমারি ও ডাইনিং সেটও বিক্রি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। আমাদের এইবারে ফার্নিচারগুলো কোন শোরুমে পাওয়া যাবে না শুধু মেলায় পাওয়া যাবে। মেলায় এ বছর আক্তার ফার্নিচারে কোন ছাড়ের সুযোগ নাই।

মেলার বিভিন্ন স্টলে দেখা গেছে, দেশীয় ফার্নিচার ব্র্যান্ডগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নতুন নতুন ডিজাইন উপস্থাপন করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি ফার্নিচার প্রদর্শন করছে, যা পরিবেশ সচেতন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। বাঁশ, বেত ও রিসাইকেলড বোর্ড দিয়ে তৈরি আসবাবও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

হাতিল ফার্নিচারে রিটেল সেলস অফিসার শাহিনুল ইসলাম শাহীন জানান, বাণিজ্য মেলা তাদের জন্য বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকায় পণ্যের মান ও নকশা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান মেলায় বিশেষ ছাড় ও কিস্তি সুবিধা দিচ্ছে, ফলে মধ্যবিত্ত ক্রেতারাও সহজে পছন্দের ফার্নিচার কিনতে পারছেন।

মেলার দর্শনার্থীর খলিলুর রহমান বলেন, “মেলায় এসে একসঙ্গে এত ধরনের ফার্নিচার দেখা যায়, যা সাধারণ শোরুমে সম্ভব নয়। দামও তুলনামূলক কম, আবার নতুন ডিজাইন দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।” আরেক ক্রেতা জানান, বাসার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি আসবাবপত্র এক জায়গা থেকেই কিনতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট।

ফার্নিচার শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিআইটিএফ-এর মতো বড় মেলা দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে নতুন উদ্যোক্তারা বাজারে পরিচিতি পাচ্ছেন, আবার পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প রপ্তানির সম্ভাবনাও বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ফার্নিচার খাতের জমজমাট উপস্থিতি প্রমাণ করে—দেশের আসবাব শিল্প ক্রমেই আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। নকশা, গুণগত মান ও দামের সমন্বয়ে এই খাত আগামী দিনেও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি