বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহ বাস্তবতা মোকাবিলায় ভোলায় শুরু হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। দীর্ঘ গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে বিশেষ একটি ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ উদ্ভাবন করেছেন ভোলার মনপুরা উপজেলার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহাসিন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা পৌরসভার পুকুরে ডিভাইসটির পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত সবার সামনে ডিভাইসটির কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বরিশাল বিভাগে এই হার প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে ভোলা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
এই নির্মম বাস্তবতা মো. তাহাসিনের ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তার আপন খালাতো বোন পানিতে ডুবে মারা যায়। এর আগেও একই পরিবারের আরও একটি শিশু একইভাবে প্রাণ হারায়। এসব মর্মান্তিক ঘটনা তাকে সমস্যাটির কার্যকর সমাধান খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে।
মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর গ্রামের বাসিন্দা মো. তাহাসিন শিক্ষক কারী আবদুল হালিমের তৃতীয় সন্তান। তিনি ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী। তাহাসিন জানান, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর তার এলাকায় এক শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
এরপর প্রায় আট থেকে নয় মাস গবেষণা ও প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি এই ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’টি তৈরি করেন।
উদ্ভাবিত ডিভাইসটি মাত্র দুই গ্রাম ওজনের এবং লকেটের মতো করে শিশুর গলায় পরানো যাবে। কোনো কারণে শিশুটি পানিতে পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে স্থাপন করা একটি রিসিভার ডিভাইসে উচ্চ শব্দে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক কল যাবে। এছাড়া জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটি কোন পুকুর বা স্থানে পড়েছে, সেটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
উদ্ভাবক মো. তাহাসিন বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, অথচ এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রযুক্তিগত সমাধান নেই। আমি চাই, এই ডিভাইসটি সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাক এবং শিশু মৃত্যুর এই মর্মান্তিক সংখ্যা কমাতে ভূমিকা রাখুক।”
এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, উদ্ভাবককে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুভকামনা জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
ভোলা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ডিভাইসটি আরও ছোট ও ব্যবহারবান্ধব করা গেলে এর কার্যকারিতা আরও বাড়বে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাপক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হলে এই ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ উপকূলীয় এলাকাসহ সারা দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক: ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ইরান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজির প্রি-অর্ডার শুরু
অপরাধ ও দুর্নীতি: জয়পুরহাটে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার