image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

মহেশপুরে টানা দুই রাত ডাকাতি পুলিশের পোশাকে হানা জনতার হাতে আটক ১

প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় টানা দুই দিন পরপর দুটি গ্রামে পুলিশের পোশাক পরিহিত সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের তৎপরতায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে ডাকাতি, অন্যদিকে জনতার সাহসী প্রতিরোধ সব মিলিয়ে পুরো এলাকা এখন উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার গভীর রাতে মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর গ্রামে একটি বসতবাড়িতে পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি চালায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে একই কায়দায় উপজেলার ১ নম্বর এসবিকে ইউনিয়নের বজ্রাপুর গ্রামে আবারও ডাকাতির চেষ্টা চালায় তারা।

বজ্রাপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ ঢালীর ছেলে মো. আবুল হোসেনের (৫৮) বসতবাড়িতে তিনজন ডাকাত পুলিশের পোশাক পরে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির মূল ফটক কেটে এবং ঘরের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে বাড়ির মালিক মো. আবুল হোসেন চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে এক ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করে।

খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতার হাতে আটক ডাকাতকে হেফাজতে নেয়। আটক ব্যক্তি মো. শান্ত (২৭), পিতা কামরুল শেখ, সাং কাস্ট সাগরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তারা মোট তিনজন ছিল এবং বাকি দুজন মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পলাতকদের একজনের নাম সুমন, বাড়ি ঝিনাইদহের আরাপপুর এলাকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আটক ডাকাত ও বাড়ির মালিকের ভাষ্যমতে, ডাকাতরা পুলিশের পোশাক পরিহিত ছিল এবং তাদের কাছে খেলনা পিস্তল, সেলাই রেঞ্চসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেছে। ডাকাতরা কিছু নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালাতে সক্ষম হলেও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মহেশপুরে গত দুই দিনে পরপর দুটি গ্রামে পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে বজ্রাপুরে জনতার সাহসী ও সচেতন ভূমিকার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে এবং একজন ডাকাতকে আটক করা গেছে। আমরা ইতোমধ্যে পলাতক আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং পুরো ডাকাতচক্রকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পরপর দুই রাতের এই ঘটনায় মহেশপুরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও, জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি