image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

কটিয়াদীতে বিক্রি হচ্ছে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো অপরিপক্ক টমেটো

প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ট্রাকে ট্রাকে আসছে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো লাল টুকটুকে টমেটো। দেখলেই কিনতে মন চায়। অবাধে এসব টমেটো বিক্রি হচ্ছে হাটবাজারে। শহরের বড় ব্যবসায়ীরা এসব টমেটো এনে বিক্রি করছেন। বড়ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানব বিশেষজ্ঞদের অভিমত থাকলেও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে পাকানো হচ্ছে অপরিপক্ক টমেটো। নিমিষেই টকটকে লাল বর্ণ ধারন করছে সবুজ টমেটো। এ ভাবে কার্বাইড জাতীয় বিষ প্রয়োগ করে প্রকাশ্যে ক্ষেত্রেই পাকানো হচ্ছে এই জনপ্রিয় সবজি।

কটিয়াদী সবজি বাজারের কয়েকজন আড়ত মালিক বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কৃত্রিম উপায়ে পাকানো টমেটো বাজারে আসছে। সেখানকার মোকাম মালিকেরা একটা দর বেঁধে দিয়ে এখানে পাঠাচ্ছেন। কটিয়াদীরের আড়তদারেরা সেই টমেটো খুচরা দরে বিক্রি করছেন। শুরুতে এই টমেটো ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা সেই টমেটো ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করছেন ক্রেতাদের কাছে। এই শীত মৌসুমে টমেটো পাকে না, ক্রেতাদের সে ধারণা না থাকায় এসব টমেটো কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

আড়ৎ মালিক রবি মিয়া বলেন, এখানে ওষুধ ও কেমিক্যাল দিয়ে টমেটো পাকানো হয় না। এখানকার ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা এই কাজ করছেন না। এতে ১৫-২০ দিন টমেটো রেখে বিক্রি করা যায়। আরেক আড়তদার সজল মিয়া জানান-এই টমেটোগুলো ময়মনসিংহ সবজি মোকাম থেকে আমাদের আড়তে আসে। এখান থেকে খুচরা বিক্রি করা ব্যবসায়িরা বিভিন্ন ছোট বাজারে মানুষ কিনে নিয়ে যায়।

কৃত্রিম উপায়ে পাকানো এসব টমেটো কটিয়াদী পৌরবাজার, পুরাতন বাজার, বাস টার্মিনাল বাজার, ইউনিয়নের বাজার ও প্রতিটি পাড়া-মহল্লার বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং ফেরিওয়ালারা বিক্রি করছেন।

কর্তৃপক্ষের উধাসিনতা উপজেলাবাসীকে ভাবিয়ে তুলছে। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঝাকালিয়া গ্রামের টমেটো ব্যবসায়ী সাইফুল জানান –কিছু কৃষকওব্যবসায়ি লুকিয়ে মানব দেহের ক্ষতিকর তরল রাসায়নিক টমেটো কে কৃত্রিম ভাবে পাকিয়ে বাজারজাত করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, উপজেলার নয়টির প্রায় ইউনিয়নেই মোট ৯০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজির আবাদ করছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে শীতের শাকসবজি বাজারে উঠলেও টমেটো ওঠতে আরও মাস দেড়েক অপেক্ষা করতে হবে। শীত ও কুয়াশার কারণে টমেটো পাকে না। ফলে লাল ও হলুদ বর্ণ আসে না।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ শাহরিয়ার অনিক বলেন, কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো টমেটোর ভিটামিন ও স্বাদ দুটোই নষ্ট হয়, যা খেলে কিডনি নষ্ট, পেটের সমস্যা, লিভারে সমস্যা এবং ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ হতে পারে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি