image

গজারিয়ায় লাভ বেশি হওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে

প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)

দেশে বছর বছর বাড়ছে ভুট্টার উৎপাদন। মূলত ধান ও গমের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। তাছাড়া ভুট্টা আবাদে পানি ও কীটনাশক খরচ লাগে কম।

স্বল্প পরিচর্যায় উচ্চ ফলনের কারণে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ভুট্টা আবাদি জমির পরিমান দিন দিন বাড়ছে। এতে পশুখাদ্য তৈরির অপরিহার্য এ উপাদানের আমদানিও কমছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পশুখাদ্য ও পোলট্রি ফিড উৎপাদনের জন্য, গজারিয়ায় স্থাপিত হয়েছ দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে, নিউ হোপ ও কাজী গ্রুপের গজারিয়া ফিড নামে প্রতিষ্ঠান দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ।

ভুট্টা চাষি ও উপজেলা কৃষি কার্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেশি লাভ ও নিশ্চিত বাজার তৈরি হওয়ায় দেশে ধান ও গমের বদলে ভুট্টার আবাদ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এক দশকে গজারিয়া উপজেলায় ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

উৎপাদনের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে আবাদি জমির পরিমাণও বেড়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভুট্টার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ( রবি ও খরিপ মৌসুম মিলে) প্রায় ৮শ হেক্টর জমিতে।

প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা প্রায় ১০ মেট্রিক টন পরিমাণ ভুট্টা। কৃষকরা জানান, ভুট্টা চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম, আর ধানের চেয়ে কম সময়ে ফসল গোলায় উঠে এবং ভুট্টা আবাদ লাভজনক তাই আগ্রহী কৃষকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

ভুট্টা চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে চলতি মৌসুমে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

এছাড়া তাদের দাবি, ভুট্টা চাষ করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়, যার কারণে প্রতি বছরই ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে চাষ, বীজ, সেচ, সার ও কীটনাশক এবং পরিচর্যা বাবদ খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করে, প্রতি বিঘায় ফলন হয় ৩০থেকে ৩৫ মণ।

প্রতি মণের আনুমানিক বিক্রয় মূল্য ছয়শ থেকে সাতশ টাকা। এতে অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ এখন ভুট্টার সবুজ গাছে ভরে উঠেছে, হাওয়ায় দুলছে সবুজ কচি পাতা।

বাউশিয়া, বালুয়াকান্দী, ইমামপুর, টেংগারচর ও হোসেন্দী এলাকায় দেখা গেছে ভুট্টার গাছগুলো বেশ লম্বা ও বড় হয়ে ওঠেছে। চাষিরা ভুট্টা জমিতে পরিচর্যা, নিড়ানী এবং সেচ কাজসহ নানা কাজে ব্যস্ত রয়েছেন

গাছগুলো হাঁটুসমান আর কিছু এলাকায় আগাম ভুট্টা রোপণ করায় গাছের উচ্চতা আরো বেশি।

উপজেলার পোড়াচক বাউশিয়া গ্রামের হাকিম আলী বলেন, ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম, দামও বেশি পাওয়া যায় বলেই ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। উপজেলার টেংগারচর গ্রামের আলমাস মিয়া বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম। দামও ভালো পাওয়া যায়। একটু দেরিতে বিক্রি করলে মণে ৯০০ থেকে থেকে হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায়।

গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেন, ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল। তাছাড়াও কম সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে ভুট্টার ক্ষতিকর বালাই ফল আর্মি ওয়ার্ম সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে এবং ভুট্টার পোল্ট্রি ফিড ব্যতীত এর বহুমুখী ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে তাহলেই এই ফসলটির স্থায়িত্ব এবং চাষাবাদ অনেকাংশে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলছেন, ভুট্টাচাষে সরকারি প্রণোদনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মূলত ধান বা অন্য ফসলি জমি ভুট্টা দখল করায় আগামী দিনে দেশে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। এ আশঙ্কায় কৃষকদের ভুট্টা চাষে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তাছাড়া ভুট্টা চারা জমির মাটির পুষ্টি উপাদান বেশি শোষণ করে, ফলে মাটির উর্বরা শক্তি দ্রুত হ্রাস পায়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি