চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাগজের মণ্ড ও কাগজ উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৩ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক রাঙামাটি জেলা কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী পেপার মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের সর্ববৃহৎ কাগজ উৎপাদনকারী কোম্পানিটি ৭৩ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতি ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কাগজ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মিলটি ইতোমধ্যে ৯১৪ টন কাগজ উৎপাদন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন কমিশনে সরবরাহ করেছে।
বাংলাদেশ স্টেশনারি অফিসের (বিএসও) মাধ্যমে সরবরাহ করা এসব কাগজের বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮১ টাকা। চাহিদাপত্র অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় থাকলেও ১১ জানুয়ারির মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সরবরাহ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়ে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে দিয়েছেন কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানোর জন্য ব্রাউন, সবুজ ও গোলাপি রঙের কাগজের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। কেপিএম সেই চাহিদা সফলভাবে পূরণ করেছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১১টি প্রতিষ্ঠানে বিএসওর মাধ্যমে আরও ১ হাজার ২০০ টন কাগজ পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।
সরেজমিন দেখা গেছে, পুরোনো ভবন ও পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতির মাঝেই চলছে কাগজ উৎপাদনের কাজ। গত অর্থবছরে ৩ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও উৎপাদন হয়েছিল ১ হাজার ৬০০ টন। তবে চলতি অর্থ ছরে ৩ হাজার ৫০০ টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯৩০ টন কাগজ উৎপাদন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজারে কেপিএমের কাগজের চাহিদা রয়েছে। উৎপাদনের আগেই অর্ডার চলে আসে। তবে ৭৩ বছরের পুরোনো অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির কারণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো যাচ্ছে না। সংস্কৃত সরকারের মন্ত্রণালয় এ প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিয়ে অবকাঠু নির্মাণ ও বিভিন্ন আধুনিক মিশনারি যন্ত্রাংশ সংযোজনের মাধ্যমে ফিরে পাবে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা।
এ অবস্থায় মিলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পুরোনো কারখানার জায়গায় একটি আধুনিক এন্টিগ্রেটেড পেপার মিল এবং ছয়টি নতুন কেমিক্যাল প্লান্ট স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সবুজ পাতাভুক্ত প্রকল্পে রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বছরে এক লাখ মেট্রিক টন কাগজ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকা- চাঙ্গা হবে এবং কাগজ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের সর্বোৎকৃষ্ট ও বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পেপার মিল কর্ণফুলী পেপার মিলসটি কমার্শিয়াল উৎপাদন শুরু হয় ১৬ অক্টোবর ১৯৫৩. পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই পেপার মিল ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকে এর উৎপাদন সক্ষমতা।
১৯৭২ সালে তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৭ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে হস্তান্তর করা হয়, যা পূর্বে ১৯৬০ সাল থেকে ব্যক্তি মালিকানাধীন ছিল। শুধুমাত্র ঐতিহ্যে নয়, গুনে ও মানে কর্ণফুলী পেপার মিল এর রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। বিখ্যাত কর্ণফুলী কাগজ এই মিলেই তৈরী হয়। এছাড়া উৎপাদিত হয় নিউজপ্রিন্ট সহ নানান মানের কাগজ।
এটি দেশের সর্ববৃহৎ কাগজের কারখানা এতে মূল কাগজ তৈরীর মিল ছাড়াও রয়েছে একটি প্রাইমারি স্কুল, শ্রমিকদের থাকার স্থান, আবাসিক এলাকা সহ সুবিশাল খেলার মাঠ, যা পর্যটকদের ও আকর্ষন করে সমান তালে। দামী ও গুণী এই পেপার তৈরীর মূল কাঁচামাল হল শুধু বাঁশ। বাঁশ থেকে চিপস, পরিষ্কারকরণ, ক্যমিকেল মিশ্রন, ম- তৈরি করে ধাপে ধাপে কাজ শেষে বেরিয়ে আসে বড় বড় কাগজের বান্ডিল। যা থেকে পরে রিম কাগজ বানানো হয় ও সবশেষে বাজারজাত করা হয়।
দেশের কাগজ শিল্পের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি নানা সমস্যায় বারবার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে ২০১৭ সাল থেকে মূল প্ল্যান্টগুলো বন্ধ থাকলেও, মাঝে মাঝে চাহিদা অনুযায়ী সীমিত উৎপাদন চালু হয়েছে, যদিও পুরনো যন্ত্রপাতি, কাঁচামালের অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এটি লোকসানে জর্জরিত এবং বড় ধরনের সংস্কারের অপেক্ষায় আছে। তবে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মিলটি পুনরুদ্ধারের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে বলে জানা যায়। সম্প্রতি, পানি স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও, সমাধান করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাগজ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে নির্ধারিত সময়ের আগে ৯১৫ টন কাগজ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।
অর্থ-বাণিজ্য: সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন
অর্থ-বাণিজ্য: কেএফসি’র মেন্যুতে নতুন সংযোজন: বক্স মাস্টার
অর্থ-বাণিজ্য: রপ্তানিতে নগদ সহায়তা আরও ছয় মাস একই থাকছে
অর্থ-বাণিজ্য: সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০২৬ জারি
অর্থ-বাণিজ্য: আইপিওতে লটারি ব্যবস্থা আবারও ফিরছে