ময়মনসিংহে ৫ পুলিশকে কুপিয়ে ছিনতাই, আসামির বাবাসহ গ্রেপ্তার ৭

জেলা বার্তা পরিবেশক, ময়মনসিংহ

এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেয়ার পথে ময়মনসিংহ নগরীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নিয়েছে তার সহযোগীরা। ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর দিঘারকান্দা ফিশারির মোড় এলাকায়। এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ও র‌্যাব রাতভর অভিযান চালিয়ে ওই আসামির বাবাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ওই এলাকার অধিকাংশ পুরুষ সদস্য বর্তমানে গ্রামছাড়া রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর দিঘারকান্দা (ফিশারির মোড়) এলাকার মৃত সুমেদ আলীর ছেলে সাগর আলী (৬১), তার ছেলে একেএম রেজাউল করিম (৩৯), মজুর উদ্দিনের ছেলে মো. নাজিম উদ্দিন (৩৭) ও মো. সুজন মিয়া (২৭), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. খলিলুর রহমান (৪০), মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে মো. নাজিম উদ্দিন (৪২) এবং সদর ইউনিয়নের চর বড়বিলা এলাকার মৃত জবেদ আলী মুন্সির ছেলে জয়নাল উদ্দিন (৫২)।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর দিঘারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় মামলার আসামি স্থানীয় সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে গেলে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে এবং হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। অন্য আহত পুলিশ সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নাজমুস সাকিব।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালী মডেল থানার এএসআই মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ ও এলাকাবাসী জানান, কয়েকদিন আগে রাসেল নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। বর্তমানে আহত রাসেল রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল দিঘারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাকে থানায় নেয়ার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে আরিফুলের বাবা সাগর আলীকে আটক করা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নাজমুস সাকিব জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশি তৎপরতা চলছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» যশোরে ৭৪টি অবৈধ কাঠের চুল্লি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

» লামায় তামাক চাষের বিস্তার, হুমকির মুখে বন ও পরিবেশ

সম্প্রতি