যশোরে ৭৪টি অবৈধ কাঠের চুল্লি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

যশোর অফিস, যশোর

যশোরের অভয়নগরে ৭৪টি অবৈধ চুল্লি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। গত সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব চুল্লি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে ভৈরব নদের পার ঘেঁষে গড়ে উঠা এসব অবৈধ চুল্লি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস অংশগ্রহণ করে। দীর্ঘদিন ধরে অবাধে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে আসছিল প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একটি চক্র। বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছিল। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একইসঙ্গে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। এ অবস্থায় অবৈধ এসব চুল্লি উচ্ছেদের দাবি ছিল স্থানীয়দের।

জানা গেছে, গত সোমবার অভিযানে সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের ধূলগ্রামের ফারুক হাওলাদারের ১৪টি, শ্মশানঘাট এলাকার ১৮টি, নলামারা গ্রামের ২৮টিসহ মোট ৭৪টি কয়লা চুল্লি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম, পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সৌমেন মৈত্র, পরিদর্শক জাহিদ হাসান, হিসাব রক্ষক মিজানুর রহমান, অভয়নগর থানা পুলিশ ও নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম।

পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভয়নগরে সিদ্দিপাশাতেই ২০০টির বেশি চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে। বিশাল আকৃতির চুলা তৈরি করে বছরের পর বছর কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আজকে (বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬) অভিযানে প্রাথমিকভাবে ৭৪টি চুলা ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরিবেশ দূষিত করে এ ধরনের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। অবৈধ এ ব্যবসা বন্ধে অভিযান অব্যহৃত থাকবে।’

স্থানীয়রা জানান, অভয়নগরের বুক চিড়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। এই নদের দুপাশে সিদ্দিপাশা, প্রেমবাগ, চেঙ্গুটিয়া, চাঁদখালি ও পেরুলি গ্রামেও রয়েছে শত শত কাঠের চুল্লি। চুল্লিতে অবাধে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা। বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য। অনুমোদনহীন জনবসতি এলাকায় জমি নষ্ট করে এসব কারখানা স্থাপন করায় স্থানীয়রা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

আব্দুস সালাম নামে স্থানীয় একজন জানান, চুল্লি মালিকরা কারও কথার তোয়াক্কা করেন না। রাস্তার পাশে কয়লা তৈরির কারখানা স্থাপন করে সারাদিন খোলা জায়গায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছেন। একদিকে বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত নানা ব্যাধিতে ভুগছে স্থানীয়রা।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» লামায় তামাক চাষের বিস্তার, হুমকির মুখে বন ও পরিবেশ

» ময়মনসিংহে ৫ পুলিশকে কুপিয়ে ছিনতাই, আসামির বাবাসহ গ্রেপ্তার ৭

সম্প্রতি