দীর্ঘদিনের অবহেলা আর নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার বেড়াজাল ভেঙে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পাড়াদূর্গাপুরে শুরু হয়েছে নতুন আশার পথচলা।
গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে ৬টি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয় গতকাল বুধবার বিকেলে যেখানে ব্যতিক্রমীভাবে উদ্বোধন করেন মাত্র ৫ বছরের শিশু মাহফুজুল হাসান সানি- যা অবহেলিত গ্রামটির উন্নয়ন সংগ্রামে এক মানবিক ও অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. শাহাদত হোসেন, লেখক ও এক্টিভিস্ট আবুল কালাম আল আজাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পাড়াদূর্গাপুর গ্রামটি বলাইশিমুল ইউনিয়নের শেষ সীমানায় অবস্থিত। একই সঙ্গে এটি আশুজিয়া ইউনিয়নের সীমানাঘেঁষা একটি গ্রাম। প্রায় ৯ শতাধিক মানুষের বসবাস এই গ্রামে। শিক্ষার হার প্রায় ৮০ শতাংশ। অর্ধশতাধিক মানুষ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরিরত এবং শতাধিক ব্যক্তি বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নিয়োজিত রয়েছেন। গ্রামে রয়েছে ৩টি পুরুষ হেফজখানা মাদ্রাসা, ১টি মহিলা মাদ্রাসা, ৩টি মসজিদ ও ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এতসব ইতিবাচক দিক থাকলেও গ্রামটির সবচেয়ে বড় সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখানে এখনও একটি পাকা রাস্তা নেই। বর্ষা মৌসুমে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাতায়াত করাও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।
অটোরিকশা বা সাধারণ যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকা খলখলিয়া খালটি এখন কেবল দৃশ্যমান, কার্যকারিতা নেই বললেই চলে।
গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে গত ১২ জানুয়ারি গ্রামবাসী এক বৈঠকে মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন, পাড়াদূর্গাপুর গ্রামের মসজিদ থেকে বলাইশিমুল গ্রাম পর্যন্তসহ ছোট-বড় মোট ৬টি পুরনো কাঁচা রাস্তা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে প্রশস্ত করে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চলাচল উপযোগী রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
এতে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ গ্রামবাসীর অর্থায়নে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাড়াদূর্গাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান বলেন, এই গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। রাস্তার অভাবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, এই অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
উদ্যোক্তা লেখক ও এক্টিভিস্ট আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, আমি এই গ্রামের সন্তান। শিক্ষা ও চাকরির দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও আমাদের গ্রামের রাস্তা-ঘাটের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সরকারি কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন আমাদের গ্রামটির প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হয়।
বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. শাহাদত হোসেন বলেন, পাড়াদূর্গাপুর একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। চলতি অর্থবছরে যদি সরকারি বরাদ্দ আসে, তাহলে এই রাস্তার ওপর থাকা ইউ-ড্রেন ও কালভার্টগুলোর দ্রুত ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
দীর্ঘদিনের অবহেলার পর অবশেষে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণ কাজে নেমে পাড়াদূর্গাপুরবাসী প্রমাণ করেছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে উন্নয়ন সম্ভব। গ্রামবাসীর আশা, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার পথও সুগম করবে।
সারাদেশ: চকরিয়ায় চলছে ফসলি জমি কাটার মহোৎসব