কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে কৃষিজমি কেটে মাটি লুটের মহোৎসব। স্থানীয় কতিপয় চক্র কৌশলে জমি মালিকদের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে কিংবা কেউ নিজের জমি এক্সেভটর গাড়ি দিয়ে কেটে শ্রেণী পরিবর্তনপূর্বক ফসলি জমির টপসয়েল বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমাণ। এতে বিপন্ন হচ্ছেদ পরিবেশ প্রতিবেশ।
অভিযোগ উঠেছে, গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জমির উপরি অংশ (টপসয়েল) মাটি কেটে শ্রেণী পরিবর্তনের মাধ্যমে মাটি লুটের মহোৎসব চললেও পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা রয়েছেন একেবারে নীরব।
এ সুযোগে অনেকটা বিনা বাধায় কৃষিজমি কেটে মাটি লুটের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে মাটিখেকো সিন্ডিকেট। এ অবস্থার কারণে আগামীতে চকরিয়া উপজেলার প্রতিটি জনপদে কৃষিজমির পরিমাণ তুলনামূলক কমে যাওয়ার সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে অদূর ভবিষ্যতে চরম খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও পরিবেশ সচেতন মহল।
অবশ্য একটু দেরিতে হলেও ফসলি জমি কেটে টপসয়েল লুটের অপকর্ম বন্ধ ও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সর্বশেষ গতকাল বুধবার উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ও ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে আলাদা দুটি অভিযান চালিয়ে মাটি লুটের মহোৎসব থামিয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রুপায়ন দেব।
তিনি বলেন, আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে মাটি লুটের অভিযোগে উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা এলাকায় নাজিম উদ্দীন নামের একজনকে ১ লাখ টাকা এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় একই অপরাধে রবিউল হাসান নামের অপর একজনকে ১ লাখ টাকাসহ মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট করে অবৈধভাবে টপসয়েল লুটের এই কর্মকা- পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
কৃষিজমি রক্ষায় আদালতের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, মাটির উপরি অংশ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টপসয়েল কাটার ফলে জমি তার উর্বরতা হারাচ্ছে।
দিন দিন জমির উপকারী উর্বরতা হ্রাস পাওয়ায় কৃষিতে ফসল উৎপাদনে ধস নামার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ড চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষিজমির পরিমাণ তুলনামূলক কমে যাবে। তাতে উৎপাদন সংকোচিত হয়ে চরম খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেন, কয়েকবছর ধরে কৃষিজমির উপকারী উর্বর অংশ (টপসয়েল) কাটার মহোৎসব চলছে উপজেলার ফসলি জমিতে। এসব মাটি ইটভাটা, পুকুর ও ভিটে ভরাট কাজে ব্যবহার হচ্ছে। একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বিঘ্নে জমির টপসয়েল কেটে পাচারে মেতে ওঠেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার ঢেমুশিয়া, পশ্চিমবড় ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী, সাহারবিল ও পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি ফসলি জমির মাঠে শোভা পাচ্ছে মাটিকাটার যন্ত্র (স্কেভেটর)। স্কেভেটর দিয়ে জমির উপরি অংশ কেটে ডাম্পার ও মিনি ট্রাকে ভর্তি নেওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এছাড়া পুকুর ও মানুষের ভিটে ভরাট কাজে ব্যবহার হচ্ছে এসব মাটি।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ ও সংরক্ষণ) মো. মহিউদ্দিন বলেন, কৃষিজমির উপরি অংশ হলো জমির প্রাণ। জমির ওপরের ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত মাটিকে উর্বর অংশ (টপসয়েল) বলা হয়। মাটির ওই অংশই থাকে মূল জৈবশক্তি। এটি কেটে নেয়া হলে আর জমিতে ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকে না।
সারাদেশ: চকরিয়ায় চলছে ফসলি জমি কাটার মহোৎসব