স্থায়ী জলাবদ্ধতায় কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলার ২৭ বিলের ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নদ-নদীর খননকাজ চলমান রাখতে ডায়ের খালে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দেয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে ওই অঞ্চলের বোরো আবাদ। বন্ধ হয়ে গেছে বিল খুকশিয়ায় ৩০টি বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প স্থাপনের কাজ। ফলে দীর্ঘ ৭ মাস ধরে ৬ ইউনিয়নের ২২ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে পানিবন্দী জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ২৭ বিলের আওতায় ৬৮ গ্রামটি রয়েছে। এলাকার বর্ষার অতিরিক্ত পানি বিল খুকশিয়ার ডায়ের খালের ৮ ব্যান্ড স্লুইস গেট দিয়ে হরি নদীতে নিষ্কাশন হয়। হরি নদী ও তার সংযোগ ডায়ের খালের ৮ ব্যান্ড স্লুইস গেট পলিতে ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে পাঁজিয়া ইউনিয়নের ১০ গ্রাম, সুফলাকাটির ১২ গ্রাম ও মনিরামপুর এলাকার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ৩ গ্রাম, খানপুরের ৮ গ্রাম, দূর্বাডাঙ্গার ১৮ গ্রাম ও মনোহরপুরের ৫ গ্রামসহ ৫৮ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী জীবনযাপন করে। এলাকার জনগণ দুই যুগ ধরে কোনো ফসল আবাদ করতে পারে না। গ্রামবাসী ২০২৪ সাল থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে বিল খুকশিয়ার ডায়ের খালের ৮ ব্যান্ড স্লুইস গেট সচল করে হরি নদীতে পানি নিষ্কাশন চালাচ্ছিল। এদিকে, নদী-খাল খননের লক্ষ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর প্রশাসন ডায়ের খালে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দেয়। কিন্তু মনিরামপুর অংশের বিলের পানি সেচ অব্যাহত থাকে। এ অবস্থায় পানি ৮ ব্যান্ড স্লুইস গেটে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তা ঢুকে পড়ছে নিন্মাঞ্চলের গ্রামগুলোতে। দিন দিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানিতে তলিয়ে আছে দুই উপজেলার বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, বেতিখোলা, নারায়নপুর, কালিচরণপুর, রোজিপুর, আশাননগরসহ ২২ গ্রামের বাসিন্দারা।
বাগডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আসিত মন্ডল জানান, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় তার গ্রাম সারা বছর জলাবদ্ধ থাকে। কাটাখালি বাজারের ৪ ব্যান্ড স্লুইস গেটে মেশিন লাগিয়ে যদি বিলের পানি নিষ্কাশন করা যায়, তাহলে বিলে বোরো আবাদ সম্ভব হতো। কানাইডাঙ্গা গ্রামের মাওলানা তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ঘের মালিকরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল সেচ দেয় না। পরপর কয়েক বছর বিলে ধান হচ্ছে না। ঘের মালিকরাও কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। এ সুযোগে তারা ১২ মাস মাছ চাষের নামে বাণিজ্য করে যাচ্ছে।
২৭ বিলে সেচ কমিটির নেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ২০ নভেম্বর ৮ ব্যান্ড স্লুইস গেটের সামনের বাধ খোলা রাখার দাবিতে সেচ কমিটির পক্ষে যশোরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবরে আবেদন করা হয়। কিন্তু তা আমলে নেয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, যদি ১২ কিলোমিটার নদী খোলা রেখে ৬৮ কিলোমিটার নদী খনন করা হতো, তাহলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ আরও প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হতো।
এ ব্যাপারে ২৭ বিল সেচ ও নিষ্কাশন কমিটির সভাপতি মোকবুল হোসেন মুকুল বলেন, ২০২৪ সালে ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশন হয়নি। কৃষক ও ঘের মালিকদের কাছ থেকে আদায়কৃত ৫৮ লাখ টাকার মধ্যে ৮ ব্যান্ড স্লুইস গেটের সামনে ৩৪ লাখ টাকায় ট্রান্সফরমার স্থাপন, পলী অপসারণ, গেট সংস্কার, খাল খননসহ ৫৪ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৫ কিউসেকের ৩টি পাওয়ার পাম্প বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পানি সেচের সময় পেলে সমস্ত বিলে ধান হতো। নদী খননকাজ চলমান থাকায় বাধের কারণে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
কেশবপুর পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ বলেন, কেশবপুরের জলাবদ্ধতা নিরসনে হরিহর, বুড়িভদ্রা, আপারভদ্রা, হরি নদীসহ সংযোগ খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। যা সেনাবাহিনী দেখভাল করছে। এখন আমাদের কোনো হাত নেই।
সারাদেশ: চকরিয়ায় চলছে ফসলি জমি কাটার মহোৎসব