হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ করাতকল। বন আইন ও পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যেই এসব করাতকল পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করেই দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ করাতকল চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের পাশে ও উপজেলার বাহুবল, সাতকাপহন, মিরপুর, নতুন বাজার, স্নানঘাট, ডুবাঐবাজার, পুটিজুরী, লামাতাসীসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে ছোট-বড় একাধিক করাতকল। এসব করাতকলে প্রতিদিন বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকা থেকে কাটা মূল্যবান গাছ চিরাই করা হচ্ছে, যার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ইমরান মিয়া বলেন, সবাই জানে কোন করাতকল বৈধ আর কোনটা অবৈধ। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। কারণ উপরে টাকা পৌঁছায়- এই কথাই এলাকায় ওপেন সিক্রেট। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন করা হয় এবং দিনে নির্বিঘেœ করাতকলগুলো চালু থাকে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালানোর খবর শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো কার্যকারিতা নাই দাবি এলাকাবাসীর। এ বিষয়ে বন বিভাগের তথ্য মতে বাহুবল উপজেলায় মামলা বিহীন অবৈধ করাত কল ২৯টি ও রিটকৃত ৯টি করাতকল চালু আছে।
অবৈধ করাতকলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বনকর্মকর্তা (শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জার) তোফায়েল আহমেদ বলেন, একটি অভিযান করতে হলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হয়। তবে আমি যোগদানের পর গত এক বছরে ৪টি করাতকলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি।
কিন্তু অভিযানের পরে করাতকল মালিকরা আবার তাদের স’মিলের কাজ চালু করে দেয় (আইনের চাইতেও অবৈধ করাতকলের মালিকদের ক্ষমতা বেশি)। তিনি আরও বলেন, যদি আমার কোনো স্টাফ অবৈধ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতের প্রামাণ পাই অথবা কেউ দিতে পারে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা সামনে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করব। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, অবৈধ করাতকল বন্ধ না হলে বন উজাড় আরও ত্বরান্বিত হবে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে বলেন, বনকর্মকতার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট সহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।