বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে চিংড়াখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী উত্তর চিংড়াখালী ও দক্ষিণ চিংড়াখালী সংযোগ খালের ওপরে নতুন পুল নির্মাণের ফলে দুর্ভোগ লাগব হলো ৪ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আর নৌকায় পাড় হতে হবে না বিদ্যালয়ে যেতে। ৪ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থার সচল হলো চাকা। গ্রামবাসীরা এ অবদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ সমাজ সেবক আমিনুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
সরজমিনে বৃহস্পতিবার, (১৫ জানুয়ারী ২০২৬) চিংড়াখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর প্রশাখা উত্তর চিংড়াখালী ও দক্ষিন চিংড়াখালী সংযোগ খালের পুলটি দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ভেঙে পড়ায় নৌকা পাড়াপাড়ে চলাচল করতে হয় চিংড়াখালী ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর, হোগলাপাশা, বনগ্রাম ৪টি ইউনিয়নের ১০ গ্রামের ৪-৫ হাজার মানুষের। যাতায়াতের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীরা পরে বিপাকে। বিদ্যালয়ে পাঠদানে যেতে হয় নৌকায় পাড়াপাড় হয়ে তাদের বিকল্প হিসাবে। হাট বাজারগুলোতে সাপ্তাহিক ক্রয় বিক্রয় ক্ষেত্রে চিংড়াখালী বাজার, কামলা বাজার, চন্ডীপুর বাজার, নারেকলবাড়িয়া বাজারে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া স্থানীয়রা নেবা নীতে ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যোগাযোগের দুর্ভোগে পড়েন মাসের পর মাস গ্রমবাসীরা। অবশেষে কিছুটা সরকারি অর্থায়নে ও এলাকার সমাজ সেবক চিংড়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের নিজ আর্থিক সহায়তায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ সংযোগ খালের ওপরে নির্মিত হয় একটি নতুন কাঠের পুল। নতুন এ পুলটি নির্মাণের ফলে ৪ ইউনিয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে তাদের অর্থনৈতিক চাকা সচল করে ফিরে পেয়েছেন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী তানহা ইসলাম, জান্নাতী আক্তার ও মুহিন ইসলাম বলেন, আমাদের এখন আর নৌকায় পার হয়ে স্কুলে যেতে হবে না। ভাঙা পুল পাড় হতে গিয়ে সহপাঠীদের আর পরে যেতে হবে না। এ আনন্দ আমাদের জন্য এক অন্য রকম পাওয়া। সমাজ সেবক হিসেবে যারা এ পুল নির্মাণ করে দিয়েছেন তাদের প্রতি সব শিক্ষার্থী আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
কথা হয় চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসেন, সহকারী শিক্ষক এসএম রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক এনামুল কবির স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কালাম সরদার উত্তর চিংড়াখালী গ্রামের শেখ সিদ্দিকুর রহমানসহ একাধিক গ্রামবাসীরা বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও স্বস্তির হাফ ছেড়েছি। মনে হয় কিছুটা হলেও দুর্ভোগ কেটেছে। এলাকার বৃদ্ধ, শিশু, স্কুলশিক্ষার্থীদের আর ভাঙা পুল পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হবে না। তারা জনগুরুত্বপূর্ণ সংযোগ খালের ওপারে নির্মিত পুলের স্থানে পরবর্তীতে একটি ব্রিজ নির্মাণে দাবি জানান সরকারের প্রতি। একই সঙ্গে সমাজ সেবামূলক এ কাজের জন্য স্থানীয় সমাজ সেবক আমিনুল ইসলামের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে চিংড়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সমাজ সেবক আমিনুল ইসলাম বলেন হাইস্কুলে সামনে এ পুলটি নির্মাণ শুধু নয় এরকম ছোট খাট পুল, সাঁকো, রাস্তা নিজ আর্থিক সহায়তায় এলাকায় একাধিক করা হয়েছে মসজিদ মন্দিরে ও অনুদান নিজের পরিশ্রমে যতটুকু পেরেছি সহযোগিতায় তাদের পাশে থেকেছি। জন্মভূমি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য কিছু একটা করতে হবে আমি এতটুকুই বুঝি, উদ্দেশ্যই মানবসেবা।