image

কাজ শুরুর আগেই শঙ্কায় হাওরপাড়ের কৃষকরা

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন ও বরাদ্দ বণ্টনকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের লিখিত অভিযোগ উপেক্ষিত থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত সময় পার হলেও অধিকাংশ বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় আগাম বন্যা নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।

উপজেলা প্রশাসন ও কাবিটা মনিটরিং কমিটির কাছে দেয়া একাধিক লিখিত অভিযোগে কৃষকরা দাবি করেছেন, পাকনা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ৪০ ও ৪১ নম্বর পিআইসির আওতাভুক্ত কাজগুলোতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও বাঁধসংলগ্ন গ্রামের কৃষকদের বাদ দিয়ে দূরবর্তী গ্রামের লোকজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট গ্রামের কৃষকদের আবেদন থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো কাজ দেয়া হয়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাঁধের বড় একটি অংশ অক্ষত ও মেরামতের প্রয়োজন কম থাকা সত্ত্বেও আগের বছরের মতোই বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এতে একদিকে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে হাওরের প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। জামালগঞ্জ উপজেলা মনিটরিং কমিটির গণমাধ্যম প্রতিনিধি সদস্য ও জামালগঞ্জ প্রেস ক্লাব সভাপতি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ বলেন, কাবিটা স্কিমের প্রকল্প দেয়ার আগে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে উপজেলার একটি সভায় পাউবোর জামালগঞ্জের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম কৃষকদের আবেদনের ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক তালিকা উপস্থাপন করেন। কিন্তু কাকে কোন প্রকল্প দেয়া হবে কিংবা কোনো প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হবে- এসব বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, মতামতও নেয়া হয়নি। কিছুদিন পর জানতে পারি পিআইসির মাধ্যমে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সারা দেশে সব ডিসি এএসপি ও সব অফিসার ইনচার্জ ও ইউএনও রদবদল হয়েছে কিন্তু জামালগঞ্জ উপজেলা ইউএনও আজব্দি বদলী হয়নি উনার সেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন করছে। কিন্তু কোন সফল হয়নি গত ২০২৪ ও ২৫ সালের এডিপির ৬০ লাখ টাকা নিজেই ঠিকাদার সেজে উনার ইচ্ছে মতো মেস্তরি দিয়ে কাজ করিয়েছেন। প্রতিটি কাজেই টেন্ডার দিয়ে লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিকাদাররা কাজ করত কিন্তু উনার নিজের ইচ্ছে মতো খামখেয়ালী পনাই কাজ করছেন এবং সব কাজেই বিভিন্ন অনিয়ম করে নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করেছ।

কৃষকদের অভিযোগ, লিখিত আবেদন ও স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগপত্র দেয়ার পরও বিষয়টি তদন্ত বা পুনর্বিবেচনার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মানবজমিন প্রতিনিধি সরেজমিনে হাওর পরিদর্শনে গিয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র দেখতে পান। অধিকাংশ অক্ষত বাঁধে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের উপেক্ষা করে জমিহীন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পিআইসি দেয়া হয়েছে। নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের ফলে জমি ধসে কৃষিজমি নদীতে চলে যাচ্ছে। কোথাও পিআইসির কাজ চলমান থাকলেও সভাপতি ও সদস্যসচিবের উপস্থিতি নেই, নেই কোনো সাইনবোর্ড। সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে ক্ষমতাসীন জনপ্রতিনিধিদের পিআইসি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে পাউবোর সদস্যসচিব বলেন, অক্ষত অংশ মনিটরিং করেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে কে কাছের আর কে দূরের কৃষক- এটি মনিটরিং করার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের। গঠনতন্ত্রের নীতিমালা ১.৩ অনুচ্ছেদের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিআইসি গঠন করেছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ইনকোয়ারি টিমের মাধ্যমে বাঁধের বরাদ্দ বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তবে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাংবাদিকরা কি শুধু বগলাখালি ক্লোজারই দেখেন? অন্য কোনো বাঁধের কাজ কি তারা দেখেন না? এই মন্তব্যে সাংবাদিকরা হতবাক হন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। উনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোক তাই জামালগঞ্জ উপজেলার সরকারি কাজে মনিটরিং কমিটির সদস্যদের বাদ দিয়ে পিআইসি কাজ দিয়ে দিছেন।

অক্ষত দুটি বাঁধে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত ও প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো কাজ শুরু না হলে শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের কাজ করা হবে, যা আগাম বন্যার চাপ সহ্য করতে পারবে না। এতে হাওরের একমাত্র বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। কৃষকদের দাবি, লিখিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সম্পৃক্ত করে পিআইসি পুনর্গঠন এবং দ্রুত কাজ শুরুর ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবছরের মতো এবারও জামালগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ

সম্প্রতি