image
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইবোর্ড এ উল্টোপথে চলছে যানবাহন -সংবাদ

মহাসড়কে উল্টোপথে চলছে যানবাহন, ঘটছে দুর্ঘটনা

প্রতিনিধি, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে অবাধে প্রকাশ্যেই উল্টোপথে চলছে নানা ধরনের অবৈধ (নিষিদ্ধ) যানবাহন। কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না এ অনিয়ম। এতে প্রায়ই সময় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। উল্টোপথে এসব অবৈধ যান চলাচল বন্ধ না হলে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দুটি পূর্বাঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটি মহাসড়ক দিয়ে ১৮ জেলার ৩৩ রুটের দূরপাল্লার অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী বাসসহ প্রতিদিন নানা ধরনের কয়েক লক্ষাধিক যানবাহন চলাচল করছে। ফলে এ মহাসড়ক দুটি এক মিনিটের জন্যও ফাঁকা থাকছে না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ দুটি মহাসড়কের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্টোপথে নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল। অভিযোগ রয়েছে, হাইওয়ে থানা, ফাঁড়ি, ক্যাম্প ও থানা পুলিশের চোখের সামনেই অবাধে চলছে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উল্টোপথে অটোরিকশা, মিশুক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিসহ থ্রি হুইলার যানবাহন চলাচল নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্টোপথে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল করায় একদিকে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে অন্যদিনে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ নানা ধরনের দ্রুতগামী যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কে উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করায় একের পর এক ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ফলে দিন দিন প্রাণহানীর সংখ্যাও বাড়ছে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহসড়ক অতিক্রম করেছে। এ দুটি মহাসড়কের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, শিমরাইল, মৌচাক, মাদানীনগর, কাঁচপুর, মদনপুর, যাত্রামুড়া, তারাব, রূপসীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এ বাসস্ট্যান্ডগুলো অতিক্রম করেই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দূরপাল্লার যাত্রীবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন বিভিন্ন জেলায় চলাচল করছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কের শিমরাইল থেকে কাঁচপুর, কাঁচপুর থেকে শিমরাইল, শিমরাইল থেকে মৌচাক-সানারপাড়-সাইনবোর্ড, মদনপুর থেকে কাঁচপুর, মদনপুর থেকে লাঙ্গলবন্দ, কেওঢালা, কাঁচপুর থেকে যাত্রামুড়া, তারাব ও রূপসী পর্যন্ত অবৈধভাবে প্রকাশ্যে উল্টোপথে চলছে অবৈধ যান। খবর নিয়ে জানা যায়, গত বছর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে যাত্রীবাহি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংর্ঘষে কাকলি ও তার পাঁচ বছরের শিশুপুত্র রাফি ও অটোরিকশার চালক আনিছ নিহত হয়। ২০২২ সালের ৯ অক্টোবর শিমরাইল থেকে কাঁচপুরে উল্টোপথে চলাচলের সময় একটি অটোকিশার সঙ্গে মাইক্রোসের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৫ জন যাত্রীই নিহত হয়। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করায় দুএকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। তারপরও এখনও উল্টো পথেই চলছে এসব অবৈধ যানবাহন।

সাইনবোর্ড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মহির মিয়া বলেন, দীর্ঘ ৬ বছর থেকে ৭ বছর ধরে শিমরাইল থেকে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত উল্টোপথে দুই থেকে তিন শতাধিক অটোরিকশাসহ নিষিদ্ধ (মহাসড়কে চলাচল নিষেধ) যানবাহন প্রকাশ্যেই নির্বিঘেœ চলাচল করছে। এতে যেকোনো ঘটতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা। এ রুটের অটোচালক সানজু হোসেন বলেন, শিমরাইল থেকে কাঁচপুর, মদনপুর পর্যন্ত উল্টো পথেই দুই শতাধিক এ ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। আমি ৫-৬ বছর ধরেই মহাসড়কে অটো চালাচ্ছি।

কাঁচপুরের স্থানীয় বাসিন্দা রানা হায়দার বলেন, মহাসড়কে অটোরিকশা, মিশুক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিসহ থ্রি হুইলার গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। তারপরেও হাইওয়ে পুলিশের সামনেই এ নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করছে। এতেও তারা ক্ষ্যান্ত হননি এখন দীর্ঘদিন ধরে চলছে উল্টোপথেও। আমাদের দেশের কোন আইন আছে বলে মনে হয় না। উল্টো পথে এ সব যানবাহন চলাচল করায় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনাও। এ অবৈধ যানবাহন চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। তা না হলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চালক, যাত্রীসহ সবাইকে অসচেতন হতে হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি