অর্থের অভাবে ছোট্ট তিথীর চিকিৎসা আটকে আছে, যন্ত্রণায় ছটফট করা শিশুটির মুখের দিকে তাকাতে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায় দিনমজুর বাবা-মায়ের। ছোট্ট ভাঙা টিনের চালে ঠাসাঠাসি বসবাস করছেন পরিবারের ৬ জন সদস্য। ভাঙা ঘরে হু হু করে ঢোকে পৌষের হিমেল ঠান্ডা বাতাস। যেখানে ঘর মেরামত করা, তিন বেলা নির্ভারভাবে খাবার জোটে না, সেখানে কীভাবে অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসা করাবেন তারা। এদিকে জরুরি অপারেশন করা না গেলে দেখা দিতে পারে তিথীর জীবন সংশয়! এখন কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পারে এই শিশুটির মুখে হাসি ফোটাতে, তাকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কর্ত্তিমারী বাজারেই সরকারি খাসজমিতে টিনের চালা তৈরি করে আশ্রয় নিয়েছেন ভূমিহীন দম্পতি বাচ্চুমিয়া ও শাহনাজ খাতুন। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তাদের সংসার। সঙ্গে থাকেন বাচ্চু মিয়ার মা বাচ্চানী বেওয়াও। দিনমজুর এই পরিবারে ৫ বছরের ছোট সন্তান বন্যা আক্তার তিথী। জন্মের পর থেকে তার হার্টে ফুটো। সন্তানের চিকিৎসার জন্য এই দম্পতি গত তিন বছর ধরে প্রথমে রৌমারী হাসপাতাল, তারপর রংপুর মেডিকেল কলেজ এবং শেষে ঢাকার শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। এখন চিকিৎসকরা দ্রুত তিথীর অপারেশনের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। গত বছর তারা অপারেশনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন চলতি মাসের ২০ জানুয়ারি। সেজন্য দরকার প্রায় ২ লাখ টাকা। কিন্তু গরিব পরিবারের পক্ষে সেই টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আটকে আছে সন্তানের অপারেশন। ছোট মেয়ের পিছনে ধার-দেনা করে চিকিৎসা করতে গিয়ে আটকে গেছে বড় মেয়ে ও মেঝো ছেলের পড়াশুনা। বড় মেয়ে ইন্টারমেডিয়েট পাশ করে বাড়িতে বসে আসে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিপড়–য়া মেঝো ছেলেরও পড়াশুনা আটকে আছে। এখন এই পরিবারটি চোখে অন্ধকার দেখছেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। পরিচিত লোকজনের কাছে হাত পেতেও কোনো অর্থ সহায়তা না পাওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা।
শিশু তিথীর মা শাহনাজ খাতুন বলেন, সন্তানের সুস্থতার জন্য সবার কাছে যাচ্ছি, কিন্তু এখনও সহযোগিতা পাই নাই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না।’
তিথীর বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘তিন বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসার পিছনে টাকা-পয়সা সব শেষ। মানুষের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছি, সবাই আশ্বাস দেয়, কিন্তু টাকা দেয় না। ডাক্তার বলেছে ২ লাখ টাকা হলে অপারেশনসহ সব খরচ মেটাতে পারবে।’
প্রতিবেশী আনিছুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটির চিকিৎসা করতে গিয়ে বাকি দুটি সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এদিকে অর্থাভাবে অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না বাবা-মা। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো দরকার।’
যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, পরিবারটি ভূমিহীন ও অর্থহীন। আমিও তাকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। এ ছাড়া যারা বিত্তবান আছেন তারা সহযোগিতা করলে মেয়েটি সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ইউনেট ও ইয়ুথ হাব এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর
অপরাধ ও দুর্নীতি: লোহাগড়ায় যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪