নড়াইলে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় হাজারো দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। সদর উপজেলা বিছালী চাকই গ্রামে এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামবাংলা ঐতিহ্য এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সন্ধ্যায় জারিগান এবং শুক্রবার, (১৬ জানুয়ারী ২০২৬) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা, বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টগবগিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে দৌড়াচ্ছে গ্রামের এক ঝাঁক তরুণ। প্রথম পুরস্কার নেয়ার আশায় অংশগ্রহণকারীদের চেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। যে যেভাবে পারছে তার ঘোড়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ভাবেই ঘোড়া দৌড়ের মধ্যে দিয়ে চলে তাদের ঘৌড় দৌড় প্রতিযোগিতা। দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে পৌষ সংক্রান্তি উদযাপন উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। এ প্রতিযোগিতা বাহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে দোকান নিয়ে বসে ক্ষুদ্র দোকানিরা। ঘৌড় দৌড়-এ খেলা উপভোগ করতে মাঠের দুই পাশে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজারো নারী পুরুষ ভিড় করে। এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, তিনি প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করেন। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয় এবং দেখতে তার ভীষণ ভালো লাগে। বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বলেন, কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় এখনও প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক বলেন, চাকই রুখালী গ্রামের ঘৌড় দৌড় প্রায় চার থেকে পাঁচ বছরের পুরনো ঐতিহ্য। পৌষ মাস যাওয়ার দিন প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য। আমরা যতদিন এই জনপদে আছি ততদিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ঘৌড় দৌড় প্রতিযোগিতা হবে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এটিকে আরও বড় করে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তা দৌড়ানোর যে রাস্তা সেটি ও আমি সংস্কার করেছি। যাতে করে এই অঞ্চলে ঘৌড় দৌড় প্রতিযোগিতা এই উৎসব টিকে থাকে। লাখো মানুষের পদচারণা আমাদের উৎসব সফল হয়েছে। এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন বয়সি প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এ বছর নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘৌড় দৌড়ে প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কাজী হাসরাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মোল্যা, মো. আমিনুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, পারভিন বেগম, মুরাদ হোসেন প্রমুখ।
অর্থ-বাণিজ্য: গার্মেন্টস অ্যান্ড বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি
অর্থ-বাণিজ্য: বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করলো হোস্টিং ডটকম
অর্থ-বাণিজ্য: মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন
অর্থ-বাণিজ্য: ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন সাড়ে ১৭ শতাংশ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অভিবাসন প্রত্যাশীদের ভিসা যাচাইয়ে আইভিআর সেবা চালু করল ‘আমি প্রবাসী’