গাইবান্ধা ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান (৬০)কে অজ্ঞান অবস্থায় রংপুর নগরীর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত রাস্তার ধারে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। এলাকাবাসি ও পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
আজিজার রহমান ও তার স্বজনরা জানান, গাইবান্ধা ৩ আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই কালে রিটানিং অফিসার তার মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষনা করেন। ওই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। আপীলে তার প্রার্থিতা বহাল হলে তিনি বৃহসপতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় ঢাকা থেকে পিংকী পরিবহন বাসে ওঠেন। বাসটি সিরাজগজ্ঞ এলাকায় পৌছলে তিনিও অন্যান্য যাত্রীদের মতো বাস থেকে নামেন। এ সময় তাদের পার্শ্বে বসা কয়েকজন যাত্রীবেশী দুবৃর্ত্ত তাকে একটি সেদ্ধ ডিম খাইতে দেন। এই ডিম খাবার পর তিনি আর কিছু বলতে পারেননি।
আজ শুক্রবার সকাল ৬ টার দিকে ওই বাসের সুপারভাইজার অজ্ঞান অবস্থাতেই বাস থেকে রংপুর নগরীর ক্যাডেট কলেজ সংলগ্না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে মহাসড়কের কাছে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
এদিকে সকাল থেকে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত আজিজার রহমান অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়েছিলেন। পথচারিসহ আশ-পাশের লোকজন পাগল অথবা অসুস্থ ভেবে তাকে উদ্ধার করার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। সন্ধা ৬ টার দিকে ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে এলাকাবাসি জানায় এক ভদ্র লোক রাস্তার ধারে পড়ে আছেন, তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। বিষয়টি মেট্রোপলিটান তাজহাট থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধ্রা করে তাজহাট থানায় নিয়ে আসে। সেখানে পুলিশের সদস্যরা সেবা সশ্রুসা করলে তিনি জ্ঞান ফিরে পান। তার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা কালে পুলিশ জানতে পারে তিনি গাইবান্ধা ৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী।
খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর থেকে আজিজার রহমানের স্বজনরা তাজহাট থানায় আসেন।
তার বড় ছেলে আশিকুর রহমান বলেন, বাবার সাথে রাতে অনেকবার ফোন করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। পরে এক পর্যায়ে ফোনে পাওয়া গেলেও অজ্ঞাত লোকজন কথা বলছিলো, ওরা টাকা দাবি করছিলো। পরে রাত আড়াইটার দিকে বিকালে ২৫শ টাকা দেয়া হয়। তারা বার বার হত্যা করার হুমকি দিচ্ছিলো। তিনি বলেন আমার বাবাকে চেতনা নাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিলো বলে মনে হয়।
এ ব্যাপারে তাজহাট থানার ওসি আতউর রহমান জানান, গাইবান্ধা ৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী আজিজার রহমানকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধারন করে থানায় এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এখনো তিনি অসুস্থ। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ নিয়ে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে তাকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে।