image

গোবিন্দগঞ্জে বিরাট রাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, সংস্কার প্রয়োজন

খোকন আহমেদ গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা

গোবিন্দগঞ্জে খননের পর লোকচক্ষুর সামনে এসেছে ঐতিহাসিক বিরাট রাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের প্রবেশপথ, বসার স্থানসহ বিভিন্ন প্রাচীন নির্দশন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পর্যটকদের জন্য কোনো বসার স্থানসহ অন্যান্য সুবিধা না থাকায় খননকাজের উদ্দেশ্য আলোর মুখ দেখছেনা।

যে কারণে কাক্সিক্ষত পর্যটকদের সমাগম বাড়েনি। দীর্ঘদিনের এই প্রাচীন ঢিবিতে প্রথমবারের মতো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে আসে প্রাচীন অবকাঠামো ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। যেগুলো প্রাচীন ও মধ্যযুগের হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন খননকাজে নিয়োজিত রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক দলের। গাইবান্ধার ইতিহাস ও ঐতিহ্যগ্রন্থ থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান বিরাট রাজার ঢিবি বা গড়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে রাখাল দাস বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখে গেছেন।

এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজা বিরাটের এলাকায়। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, এক সময় রাজাহার ইউনিয়নের এই জায়গায় বিশাল প্রাচীরবেষ্টিত বিরাট রাজার বসতি ছিল। এটি পরিচিত বিরাট নগর নামে। প্রাচীন কালে এটি দূর্গনগরী ছিল। এখানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলাসহ সারা দেশ থেকে প্রতি বছর বৈশাখে মাসব্যাপী রাজা বিরাটের তীর্থমেলায় হিন্দুধর্মের হাজার হাজার পূণ্যার্থী আসেন। এটি বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে রাজাহার ইউনিয়নের বিরাট নগরী প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন। বিরাট নগরের পশ্চিমাংশে প্রাচীনকীর্তির অবস্থান। এখানো দিনাজপুর, জয়পুর বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক পথে সরাসরি আসা যায়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এবং খননকারী দলের প্রধান ড. নাহিদ সুলতানা খননকালে বলেছিলেন, খননের সময় ধারণা চেয়ে বড় আকারের অবকাঠামো পাওয়া গেছে। পুরো খননকাজ শেষ হলে ও জেলার বিভিন্ন স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দর্শনে আগ্রহী পর্যটকদের সমাগম ঘটতে থাকে। আগে প্রতি বছরের মেলার সময় দেশ বিদেশের পর্যটক হলেও এখন সারা বছরই এখানে পর্যটক দর্শনার্থী আসছে। কিন্তু আসার পর বিশ্রামগর, টয়লেট, পানিরসহ অন্যান্য ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। যে কারণে বিরাট রাজার এই স্থান সম্পের্কে অজানাই থেকে যাচ্ছে। বগুড়ার শেরপুর থেকে আসা পর্যটক অজয় কুমার সাহা বলেন, পৌরনিক কাহিনী মতে এই স্থানটি ছিল রাজা বিরাটের আবাস্থল। এখান থেকে তিনি তার রাজ্য শাসন করতেন। কালক্রমে এই রাজপ্রসাদ সব কিছুই মাটিতে ঢেকে গেছে। প্রত্বতত্ব বিভাগের গৃহীত কার্যক্রম অত্যন্ত প্রসংশনীয়। তাদের খনন কাজের মাধ্যমে বেশ কিছু নির্দশন উঠে এসছে। পাঁবিরি উপজেলার সালাইপুর গ্রামের দর্শনার্থী দাবি অধিক খননকাজের মাধ্যমে যেন এই ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান থেকে প্রাচীন সব নিদর্শন বের করা হয়।

তবে পর্যটক ও উৎসুক দর্শনাথীদের সুবিধার্থে বিশ্রামগার, টয়লেটসহ যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে রাজা বিরাট শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ বিগ্রহ মন্দির উন্নয়ন কর্মকর্তা শম্ভুনাথ বর্মণ বলেন, খনন কাজের মাধ্যমে পুরার্কীতির অনেক কিছু দৃশমান হলেও পুরোপুরি খনন কাজ দরকার। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধাদি বাড়ালে দর্শনাথী ও নতুন প্রজন্ম রাজা বিরাট সম্পর্কে জানতে পারবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» পত্নীতলায় বিপুল ভারতীয় নেশাজাতীয় দ্রব্য জব্দ

» সৈয়দপুরে শিক্ষায় আলোকিত করার বাতিঘর এফ ও এইচ স্কুল

সম্প্রতি