কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার চরে চরে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সরিষা ক্ষেত হলুদ ফুলে একাকার হয়ে আছে। যতদূর চোখ যায় শুধুু হলুদ আর হলুদ ফুলের সমারোহ।
সরিষা চাষে স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। বিনামূল্যে বীজ, সার বিতরণ, কম খরচ ও ভালো লাভ পাওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে সরিয়ার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে অন্য বছরের তুলনায়। গত কয়েক বছরের নতুন নতুন সরিষা বীজ উদ্ভাবনের ফলে কৃষক এখন সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছে।
এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষার ফলনে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে এ উপজেলায় ২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছিল। তবে এ বছর কিছুটা কমেছে। এবার সরিষা আবাদে প্রনদনা দেওয়া হয়েছে ৮শ কৃষককে।
চলতি মৌসুমে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষক সরিয়া আবাদে ঝুঁকছেন। অনুকূল পরিবেশে কৃষকদের সহয়োগিতা, উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ।
সরে জমিনে দেখা গেছে উপজেলার ৩ ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে একাকার হয়ে আছে। যতদূর চোখ যায় কেবল হলুদ আর হলুদ ফুলের সমারোহ। হলুদ ফুলের প্রতিটি ফুলে দুলছে কৃষকদের স্বপ্ন। চরের অধিকাংশ কৃষক জানান, অল্প খরচে বেশি ফলনের আশায় এবং সরকার থেকে বিনামূল্যে ভালো বীজ ও সার পাওয়ায় সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়েছেন তারা।
মোহনগনজ ইউনিয়নের বড়বেড় চর কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, আমন ধানের আবাদের পর এবার সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কারণ হিসেবে জানান, স্বল্প খরচ, খাটনী কম এবং বাজার মূল্য বেশি পাওয়া যায়।
কোদাল কাটি ইউনিয়নের সরিষা চাষি আশরাফ আলী জানান, বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তিনি ১ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের শিবের ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক মাহবুর রহমান জানান, ঝড়-বৃষ্টি না থাকায় এবার সরিয়া আবাদ ভালো হয়েছে। তিনি আরও জানান এ বছর ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহয়োগিতা ও পরামর্শ নিয়েছেন তিনি।
চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ দেলোয়ার হোসেন জানান, সরিষা হলো একটি লাভজনক ফসল। বেশির ক্ষেত্রে সরিষা ঝুঁকিমুক্ত। কৃষি অফিস সব সময় ফলন ভালো রাখতে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।
তিনি আরও জানান, সরিষা চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও বিনামূল্যে বীজ সার সরবরাহ নানা রকম পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।