বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় প্রায় ৩৯ বছর আগের একটি বিতর্কিত দলিল দেখিয়ে দুই সহোদরকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা হলেন- টরকি বন্দরের ব্যবসায়ী রিপন মিত্র ও সুমন মিত্র।
ভুক্তভোগী রিপন মিত্র জানান, তার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্র এবং দাদা মনরঞ্জন মিত্রের মৃত্যুর পর পারিবারিকভাবে প্রায় ৭ থেকে ৮ একর জমি উত্তরাধিকার সূত্রে তিন ভাই ব্রজ বিলাস মিত্র, স্বপন কুমার মিত্র ও নারায়ণ চন্দ্র মিত্রের মধ্যে বণ্টন হয়। পরবর্তীতে বাহিরের সব জমি বিক্রি করা হলেও নিজ বাড়ির ৬৩ নং সুন্দরদী মৌজার ১০৪৫ নং খতিয়ানের ১৯৩৪ নং দাগে মোট ৮১ শতাংশ জমি অবশিষ্ট থাকে।
রিপন মিত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৩৯ বছর আগে স্বপন কুমার মিত্র ২৭ শতাংশ জমি বিক্রি করে ভারতে চলে যান। অপর ভাই নারায়ণ চন্দ্র মিত্রও প্রায় ২০ বছর আগে বাড়ির জমি বিক্রি করে দেন, অবশিষ্ট থাকে মাত্র ৫ শতাংশ জমি, যার ওপর তার বসতঘর রয়েছে।
তবে সম্প্রতি নারায়ণ চন্দ্র মিত্র হঠাৎ করে জমির ওপর নতুন করে দাবি তুলে ধরেন এবং একটি দলিল থাকার কথা বলেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জমির দাবি আছে এবং দলিলও আছে।
ভুক্তভোগী রিপন মিত্র আরও জানান, তার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্র ১৯৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। পরে পারিবারিক প্রয়োজনে কিছু জমি বিক্রি করা হয় এবং অবশিষ্ট জমির ওপর বসতঘর, মন্দির ও শ্মশান রয়েছে। ২০১০ সালে ওই সম্পত্তি টরকি বন্দর ইসলামী ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে ঋণ গ্রহণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় ব্যাংক নিলামের নোটিস দেয় এবং অন্যান্য পাওনাদাররাও চাপ সৃষ্টি করে। ফলে তারা কিছু জমি ও ঘর বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।
ঠিক এই সময়, প্রায় ৮ মাস আগে গভীর রাতে নারায়ণ চন্দ্র মিত্র একটি দলিলের ফটোকপি রিপন মিত্রের বাড়িতে দিয়ে যান। দলিলটি হলো-দলিল নং ৫৯৬/৮৬, তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬। উক্ত দলিলে দাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে ব্রজ বিলাস মিত্রকে এবং দাবি করা হয়েছে যে, তিনি ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন।
কিন্তু দলিলের তপসিল পর্যালোচনায় একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন রিপন মিত্র। তার ভাষ্যমতে, ১০৪৫নং খতিয়ানে মাত্র একটি দাগ ১৯৩৪নং থাকলেও দলিলে ১৯৪৩নং দাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দলিলে উল্লেখিত ৭৭ জি (1x-x) মিউটেশন কেসটি আসলে তার দাদা মনরঞ্জন মিত্রের নামে, যার প্রমাণপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ ছাড়া দলিলে পূর্ববর্তী কোনো পিট দলিল বা দলিল নম্বরের উল্লেখ নেই, যা আইনগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই দলিলে দুইজন ভিন্ন লেখকের নাম ও লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ থাকাও দলিলটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
রিপন মিত্রের অভিযোগ, এটি আমার বাবার করা কোনো দলিল নয়। আমার দাদা তখন জীবিত ছিলেন। সে অবস্থায় বাবা কীভাবে এককভাবে জমি বিক্রি করতে পারেন? এটি একটি খাড়া দলিল। পরে ভুলেভরা দলিলটি সংশোধনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে দলিলটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, গত ৮ মাস ধরে এই বিতর্কিত দলিল দেখিয়ে তাদের নানা ভাবে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতি করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র মিত্র ও তার ছেলে নন্দ মিত্র রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।