সৈয়দপুরে শিক্ষায় আলোকিত করার বাতিঘর এফ ও এইচ স্কুল

প্রতিনিধি, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অনগ্রসর পরিবারের স্কুল বিমুখ শিশুদের শিক্ষামুখী করার বাতিঘর হয়ে উঠছে বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এফ ও এইচ স্কুল (ফ্রেন্ডস অব হিউম্যানিটি)। এটি শহরের নিয়ামতপুর সরকারপাড়ায় অবস্থিত। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হয়। এই বৃত্তির অর্থে ড্রেস, সু, মোজা, কাগজ কলম ও বইসহ যাবতীয় খরচ বহন করা হয়। তবে এই স্কুলে পড়ার সুযোগ পাবেন শুধু আটকেপড়া পাকিস্তানি ক্যাম্পের শিশুরা।

কথা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আয়শা সিদ্দিকা ও এফওএইচ স্কুলের প্রতিনিধি আব্দুল লতিফের সঙ্গে। তারা বলেন, সৈয়দপুরে ২২টি ক্যাম্পে আটকেপড়া পাকিস্তানিরা ১৯৭২ সাল থেকে বসবাস করে আসছে। এসব ক্যাম্পে বলতে গেলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠা। পৃথিবীর আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে তারা দূরেই অবস্থান করে। এজন্য নতুন প্রজন্মও শিক্ষায় আলোকিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত বছরের পর বছর। ফলে শিশুরাও স্কুল বিমুখ হয়ে পড়েছিলো। এমন অবস্থায় তাদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমেরিকায় বসবাসরত উর্দুভাষীদের পরিচালিত বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডস অব হিউম্যানিটি (এফওএইচ) সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। শুরু করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার কাজ। বিগত ২০১৪ সালে শহরের পুরাতন বাবুপাড়া ও গোলাহাট এলাকায় ক্যাম্পের শিশুদের নিয়ে খোলা হয় দুটি প্রাইমারি স্কুল। প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১২৫ জন শিশু প্রতিটি স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে আরও তিনটি প্রাইমারি স্কুল গড়ে তোলা হয়। সব মিলে এখন প্রাইমারি স্কুলের সংখ্যা পাঁচটি। পঞ্চম শ্রেণি থেকে পাশ করে বের হয়ে আসা শিক্ষার্থীদের ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী তথা এসএসসি পর্যন্ত অধ্যায়নের সুযোগ করে দেয়ার জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে শহরের নিয়ামতপুর সরকারপাড়ার একটি ভাড়া করা বহুতল ভবনে।

বর্তমানে প্রাইমারি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলে তাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২০০ জনের কিছু বেশি। গত ২০২৫ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। গত বছর বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ মিলে ৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করে ৫৫ জন। এ প্লাস পায় দুইজন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জনই পাশ করে। বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার শতভাগ। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও বসবে ৬১ জন শিক্ষার্থী। এসএসসি পাশের পর উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ালেখার জন্যও বৃত্তি দেয়া হয়।

এফওএফচ স্কুল প্রতিনিধি আব্দুল লতিফের দেয়া তথ্য মতে, শুরুতে বাচ্চাদের স্কুলমুখো করতে যাতায়াত ভাতা দেয়া হতো। বর্তমানে আগ্রহ বাড়ায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে টিফিন প্রিয়ডে প্রতি শিশুকে ১০ টাকা দামের একটি এনার্জি বিস্কুটের প্যাকেট, একটি সবরি কলা দেয়া হয়। কোনো কোনো দিন সবরি কলার সঙ্গে একটি ডিম ও প্রাণের জুস তুলে দেয়া হয় প্রতি শিক্ষার্থীর হাতে।

এছাড়া সপ্তম শ্রেণী থেকে শুরু করে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে কোচিং করানো হয়।

আগামী দিনে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেয়ার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। এজন্য কলেজ খোলার চিন্তা ভাবনাও কর্তৃপক্ষ করছেন বলে তিনি জানান।

বর্তমানে আমেরিকান বেসরকারি সংস্থা এফ ও এইচ (মানবতার জন্য বন্ধুত্ব) পুরোপুরি আর্থিক ব্যয় বহন করছে। এফ ও এইচ স্কুলকে ঘিরে ৭০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ জন শিক্ষক ও ১৫ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» সিংগাইরে পৌনে ২ বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার মেরামত কাজ

» পত্নীতলায় বিপুল ভারতীয় নেশাজাতীয় দ্রব্য জব্দ

সম্প্রতি