মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা ঘাট এলাকায় নদী তীরবর্তী খোলা আকাশের নিচে উম্মুক্ত স্থানে আমদানীকৃত পটাশ সার (বস্তবন্ধি) প্যাকেট জাত করণের খবর জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকালে উপজেলার মেঘনাঘাট নদীবন্দর এলাকায় রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত পটাশ সার খোলা স্থানে প্যাকেট করতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রশিয়া থেকে আমদানীকৃত, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) পটাশ সার উম্মুক্ত অপরিচ্ছন্ন স্থানে প্যাকেটজাত করার অভিযোগ উঠেছে।
বিএডিসির স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই এমনটা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে তেতৈতলা মেঘনা ঘাটে, মেঘনা নদী ঘাট সংলগ্ন নদী থেকে লাইটার ভেসেল থেকে পটাশ সার নামিয়ে খোলা জায়গায় শ্রমিকেরা বস্তাবন্দি করছেন।
সার প্যাকেটজাত করার স্থলের আশপাশে অপরিচ্ছন্ন ও গোবরজাত ময়লার স্তূপ থাকলেও তা উপেক্ষা করেই সার বস্তবন্ধি করছিলেন শ্রমিকেরা।
কর্মরত শ্রমিকরা জানান, ওই সময়ে প্রায় এক হাজার বস্তা সার প্যাকেট করা হয়েছে। সারগুলো নোয়াপাড়া গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে প্যাকেট করার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সার বিক্রয় গুদামে পাঠানো হবে জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী শরিফ হোসেন নামে একজন বলেন, পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসে দেখি নদীর পাড়ে এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করা হচ্ছে। এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
অপর একজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করে বলেন, এভাবে সার প্যাকেট করতে আগে কখনো দেখিনি। সারের মান ঠিক না থাকলে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফারুক শেখ নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলেন, সারগুলো রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লাইটার জাহাজে করে এখানে আনা হয়েছে। এখান থেকে প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে ভরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হবে। তবে এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন ইসলাম বলেন, আমরা সাধারণত নিয়ম মেনেই কাজ করি। তবে আজ কিছু সমস্যার কারণে হয়তো নিয়ম যথাযথভাবে মানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে সার প্যাকেটজাত করার সুযোগ নেই। এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করবো।
বিএডিসির ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ খসরু নোমান জানিয়েছেন, ধুলাবালি ও অপরিচ্ছন্ন স্থানে সার প্যাকেট করার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। যথাযথ নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেঘনা নদী বন্দরের ইজারাদার বোরহানউদ্দিন ভুইয়া জানান, সার আমদানী মৌসুমে আমাদের ঘাট এলাকায় লাইটার জাহাজ থেকে নির্দিষ্ট মাশুল পরিশোধ করে পণ্য খালাস করেন আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অর্থ-বাণিজ্য: গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড, ৫৪৬০ কোটি টাকা আয়
অর্থ-বাণিজ্য: প্রতিদিন ১৫০০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আসছে দেশে