image
বেতাগী (বরগুনা) :বিষখালী নদীর তীরে শীতে জমে উঠেছে পাখির প্রাণ চাঞ্চল্য -সংবাদ

শীতে ঝোপখালী চরে জমে উঠেছে পাখির প্রাণচাঞ্চল্য

প্রতিনিধি, বেতাগী (বরগুনা)

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী এলাকায় অবস্থিত পাখির চর এখন পাখি ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে এই চরে দেশীয় নানা প্রজাতির পাখির সমাগম ঘটে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এখানে পাখির উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ানো পাখির ডানা ঝাপটানো আর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকে পুরো চর এলাকা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই চরে নিয়মিত দেখা যায় বক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, সারস, দোয়েল, ফিঙে, চিলসহ নানা প্রজাতির পাখি। চরের চারপাশে গড়ে ওঠা ঝোপঝাড়, কেওড়া ও অন্যান্য গাছপালা পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। এসব গাছের ডালেই পাখিরা বাসা বাঁধছে, ডিম পাড়ছে এবং ছানা ফোটাচ্ছে। মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম থাকায় পাখিরা এখানে নির্বিঘেœ বসবাস করতে পারছে বলে জানান এলাকাবাসী।

প্রতিদিন ভোর হলেই পাখিরা দল বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে চরের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের পর থেকে আবার ধীরে ধীরে পাখিরা ফিরতে শুরু করে নিজ নিজ বাসায়। বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে আকাশজুড়ে সারি সারি পাখির উড়াল এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয় মানুষজন ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা জানান, পাখির চর এলাকার পরিবেশ এখন অনেকটাই প্রাকৃতিক রয়েছে। তবে কিছু অসচেতন মানুষের কারণে মাঝে মাঝে পাখি শিকার, ডিম নষ্ট কিংবা গাছে আগুন দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এতে পাখির নিরাপত্তা ও বংশবিস্তারে হুমকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

পরিবেশবিদদের মতে, ঝোপখালী পাখির চরকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে। এতে একদিকে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।

ঝোপখালী পাখির চর বেতাগী উপজেলার জন্য শুধু একটি চর নয়, এটি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এক মূল্যবানসম্পদ। পাখির কলরবে মুখরিত এই চর সংরক্ষণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» সিংগাইরে পৌনে ২ বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার মেরামত কাজ

» সৈয়দপুরে শিক্ষায় আলোকিত করার বাতিঘর এফ ও এইচ স্কুল

সম্প্রতি