মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের পাঁচ মাস মেয়াদের সংস্কার কাজ পৌনে ২ বছর ধরে রয়েছে বন্ধ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার লোকজন।
সড়কটি সংস্কার কাজের শুরুতে গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)পর্যন্ত গড়ালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর খেসারত দিতে হচ্ছে আশপাশের একাধিক ইউনিয়নের লোকজনকে। বিশেষ করে রোগী পরিবহনে প্রতিদিনই পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। জামশা ইউনিয়নের মাটিকাটা থেকে বলধারা ইউনিয়নের বাঙ্গালা বাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এলাকার মানুষের সরাসরি জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য ও রোগীবাহী যানবাহন ওই সড়কে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে লোকজনকে।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটির সংস্কার কাজ হাতে নেয়। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ পায় মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলী নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের এপ্রিলেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণ কাজের শুরুতেই গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব খবর দুর্নীতি দমন কমিশেেনর নজরে এলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পৌনে ২ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন করে কাজ শুরু হয়নি।
এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী সাধারণ ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্তরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে অটোরিকশা বা ভ্যান উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে সড়কটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
অটোরিকশা চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিদিন জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। একটু ভুল হলেই গাড়ি উল্টে যায়। রোগী থাকলে ভয় আরও বেড়ে যায়।’ আরেক চালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘দেড় বছর ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ। গাড়ির চাকা, সকেট-জাম্পার নষ্ট হয়ে যায়; যা আয় করি তার অর্ধেকই চলে যায় মেরামতে। তবুও যাত্রী পরিবহন না করলে সংসার চলে না।’
স্থানীয় গৃহবধূ নাজমা আক্তার বলেন, ‘যেখানে ১৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা, এখন সেখানে যেতে লাগে ৩৫-৪০ মিনিট। রাস্তায় গাড়ির ঝাঁকুনিতে রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে যায়।’
অভিযোগ রয়েছে, কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২৬ শতাংশ কাজসম্পন্ন করে প্রায় ৮০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছে।
এ বিষয়ে মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলীর ঠিকাদার মো. আবু সাঈদ খান বলেন,কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। সমস্যাগুলো সমাধান হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু করে এক মাসের মধ্যে শেষ করা হবে।
মানিকগঞ্জের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম খোরশেদ আলম বলেন, গুণগত মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ পুনরায় শুরু হবে। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু করা যাবে।
অর্থ-বাণিজ্য: গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড, ৫৪৬০ কোটি টাকা আয়
অর্থ-বাণিজ্য: প্রতিদিন ১৫০০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আসছে দেশে