রংপুর মেডিকেল কলেজের লেডিস হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ কাজের দরপত্র আহ্বান ও দাখিল প্রক্রিয়ায় রংপুর গণপূর্ত বিভাগে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি কম দরে টেন্ডার দাখিল করা সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে ২ কোটি টাকারও বেশি দরে দর দাখিলকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার পাঁয়তারা চলছে।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থায়নে রংপুর মেডিকেল কলেজের মহিলা হোস্টেলের তৃতীয় তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডার দলিল বিক্রি ও দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৬।
মোট ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। এর মধ্যে মেসার্স আমিন ট্রেডার্স ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৫০ টাকা দর প্রস্তাব করে সর্বনি¤œ দরদাতা হয়। অন্যদিকে চারটি প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকে হুবহু একই দর ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫০ টাকা ৯০৭ পয়সা দাখিল করে, যা স্পষ্টভাবে যোগসাজশের ইঙ্গিত দেয়। অন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় একই দরে দর প্রস্তাব করেছে।
দরপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমিন ট্রেডার্স ছাড়া বাকি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কার্যত একই দরে টেন্ডার দাখিল করেছে। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত বিভাগের কিছু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এতে সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার চেষ্টা চলছে। এভাবে কাজ দেয়া হলে সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি বিভাগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হবে।
রংপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল ইসলাম বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।