পৌষ ও মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। এ সময় গাছিরা ব্যস্ত থাকেন রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ ও গাছির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় যশোরের ঐতিহ্যবাহী ‘যশ’ খেজুরের রস হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে রস ও গুড়ের দামও বাড়ছে। যশোরের বিভিন্ন এলাকার মতো সীমান্তসংলগ্ন কৃষিপ্রধান উপজেলা শার্শার বেনাপোল, নাভারন, বাগআঁচড়া, পুটখালি ও গোগা এলাকায় একসময় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। ছিল অসংখ্য গাছি। শীত এলেই এসব এলাকা খেজুরের রস, গুড় ও পাটালিতে ভরে উঠত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব খেজুরের গুড় ও পাটালি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হতো। কিন্তু ইটভাটা স্থাপন ও জনবসতি বাড়ার কারণে এখন গাছ ও গাছির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে হাতে গোনা খেজুর গাছ কেটে রস ও গুড় সংগ্রহ করে কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন গাছিরা। তাদের আশা—গাছ বাড়লে আয় বাড়বে, আর দাম কমবে। গাছি মনিরুজ্জামান মনির ও হাসিবুর রহমান জানান, এখন খেজুর গাছের সংখ্যা কম থাকায় উৎপাদনও কমে গেছে। কৃষকদের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে খেজুর গাছ কাটতে হচ্ছে তাদের। উৎপাদিত গুড় ও রসের অর্ধেক ভাগ দিতে হয় জমির মালিককে। এরপরও তিন মাসের মৌসুমে রস, গুড় ও পাটালি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চলে। তারা বলেন, খেজুর গাছ বাড়লে রস ও গুড়ের চাহিদা পূরণ হবে এবং দামও কমবে। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড় সংগ্রহ চলছে। গাছিরা গাছ কাটছেন, বাড়ছে গুড় ও পাটালির চাহিদা। তবে ভোক্তাদের এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। খেজুর গাছ বৃদ্ধিতে কৃষি দপ্তরের সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা আরজিনা খাতুন ও মসিউর রহমান। আরমান হোসেন ও ফরিদা বেগম বলেন, তারা খেজুরের রস ও গুড় খুব পছন্দ করেন, তাই বেশি দাম দিয়েও কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোরের শার্শা উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার ৫০০টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার গাছ থেকে রস ও গুড় সংগ্রহ করছেন চাষি ও গাছিরা। কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, খেজুর চাষ ও সংরক্ষণে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, পতিত জমিসহ বিভিন্ন জমিতে খেজুর গাছ রোপণ এবং বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গাছের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।