মহাসড়কে দুর্ঘটনা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দেশে ৪ হাজার কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক। এসব সড়কে দিনে কমপক্ষে ৪০-৫০ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। এই সংখ্যা কখনো আরও বেশি হয়।

ড্রাইভারদের চোখ পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে

মাদক পরীক্ষার নামেও টাকা নেয়ার অভিযোগ: ড্রাইভার

অথচ সে হিসেবে মহাসড়কে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য ভারী যানবাহনের চালকদের নানা সমস্যা ও বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর কারনে দুর্ঘটনা ঘটছে।

পুলিশের একজন অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক গবেষক শিক্ষকা জানান, শুধু কুয়াশাই নয় মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানোর কারণে গাড়ি ওভারটেকিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।

গাড়ির ড্রাইভারদের বিশ্রামাগারের পর্যাপ্ত অভাব রয়েছে। যার কারণে রাস্তার পাশে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান রেখে অনেকেই বিশ্রাম নিচ্ছে। তাদের শারীরিক সুস্থতা যাচাই না করে গাড়িতে উঠিয়ে দেয়া হয়। একই ড্রাইভার ডাবল থেকে শুরু করে পারলে তিন ট্রিপও গাড়ি চালাতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মহাসড়কে এখনও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি চালানো হয়। কাগজে-কলমে ফিটনেস আছে বললেও বাস্তবে নেই। রাতে ঊর্ধ্বমুখী আলো দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপারদের চোখ ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা না করেই গাড়ি চালাতে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ড্রাইভার বা চালক গাড়ি চালানোর সময় কতদূর পর্যন্ত দেখে তাও যাচাই না করে গাড়ি চালাতে দেয়ার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ কর্মকর্তাতের মতে, ড্রাইভারদের ট্রাফিক সচেতনতার অভাব, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শিক্ষা নেই, আইন প্রয়োগ নিয়ে দুর্বলতা রয়েছে।

গাড়ি রাস্তায় নামানোর আগে সবকিছু ঠিক আছে কিনা তা যাচাই না করে রাস্তায় গাড়ি নামানোর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। নতুন করে কুয়াশার কারণে সমস্যা হচ্ছে। এসব কারণগুলো চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিলে সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে হাইওয়ে পুলিশের একজন ডিআইজি বলেন, ৪ হাজার কিলোমিটার মহাসড়কের নিরাপত্তায় ২২শ’ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য রয়েছে। এত কম সংখ্যক জনবল দিয়ে মহাসড়কে নিরাপত্তা দেয়া কষ্টকর। গত এক বছরের বেশি সময় আগে আরও ৬ হাজার জনবল বাড়ানোর জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখনও তা কার্যকর হয়নি।

সড়কে যানবাহন বাড়লেও জনবলের অভাবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে। যে পরিমাণ যানবাহন বাড়ছে সে অনুযায়ী জনবল বাড়ালে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে কয়েকজন যানবাহন চালক বলেন, মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ প্রায় মামলা করেন। আবার অনেকেই টাকা দিয়ে পাড় পেয়ে যায়। ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা হাতে দিলে চিকিৎসার সার্টিফিকেটও পাওয়া যায়। এটা নিত্যদিনের ঘটনা। হাইওয়ে পুলিশ ও হাইওয়ে থানার সংখ্যা আরও বাড়ানো হলে এবং রাস্তাকে প্রসারিত করলে দুর্ঘটনা কমতে পারে।

মহাসড়কগুলোতে চলাচল নিষিদ্ধ ছোটখাটো যানবাহন (অটোরিকশাসহ অন্যান্য) রাস্তা পার হতে গিয়ে বড় বাস বা ট্রাকের ধাক্কার কবলে পড়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।

শনিবার, (১৭ জানুয়ারী ২০২৬) রাতে একজন ড্রাইভার জানায়, স্যার ১শ’ টাকা দিলে চোখ পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া হয়। মাদক টেস্টের নামে টাকা নেয়া হচ্ছে, দালালকে বেশি টাকা দিলে রিপোর্ট সহজেই মিলে, না হয় পদে পদে হয়রানি হতে হয়। এসব বিষয়ে তদন্ত করলে আরও কাহিনী বেরিয়ে আসবে বলে ওই ড্রাইভার মন্তব্য করেন। ড্রাইভারদের মতে, মাদক টেস্টের জন্য আরও সেন্টার বাড়ানো দরকার।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ময়মনসিংহ হাসপাতালের নতুন ভবনে আগুন, আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা রাস্তায়

» ডিমলার নাউতার-বুড়ি তিস্তা-কুমলাই-ধুম নদী পুনঃখননে জরুরি সরকারি অর্থ বরাদ্দের দাবি

» চট্টগ্রামে পার্কের দরজায় মিলল কাঁথায় মোড়ানো শিশু

» মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শকের অশালীন আচরণের ভিডিও ভাইরাল

» বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন ৩৫ সাতারু

» রংপুর মেডিকেলে টেন্ডার জালিয়াতি

» সিংগাইরে পৌনে ২ বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার মেরামত কাজ

সম্প্রতি