এক একটি গাছ ৫ থেকে ৬ হাত লম্বা। গাছের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে শুধু বল সুন্দরী কুল বরই। ওই বড়ইয়ের উপরের অংশে হালকা লাল রং রয়েছে। ফলটি আকারে বড়, দেখতে ঠিক আপেলের মতো। খেতেও ঠিক আপেলের মতোই সুস্বাদু। বাগানের সারি সারি সবুজ গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা বড়ইয়ের দৃশ্য ও পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে যে কারো মন জুড়িয়ে যায়।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের কৃষক মো. নাসির উদ্দিন মৃধার (৪৫) একটি বড়ই বাগানে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে। তিনি উপজেলার পূর্ব মির্জাগঞ্জ গ্রামের তালতলী স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা। বাড়ির পাশে মাছের ঘের-সংলগ্ন ভিটায় বাণিজ্যিকভাবে এই বরই চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। বড়ই বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে আনন্দেই দিন পার করছেন। তিনি ওই এলাকার আনিস মৃধার ছেলে।
জানা যায়, বিশাল জায়গায় চারা রোপণের ১ বছরের মধ্যেই গাছগুলোতে ফলে ভরপুর হয়ে ওঠে। বাজারে এই কুলের চাহিদা ও দর ভালো হওয়ায় কৃষক নাসিরের মুখে দেখা দিয়েছে হাসিক ঝিলিক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যাবতীয় খরচ বাদে এই চাষ থেকে তার এবছর লক্ষাধিক টাকা আয় হবে বলে জানান তিনি। প্রথম দিকে স্বল্পপরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তার ৪৪ শতাংশ জায়গাজুড়ে এই বাগান রয়েছে। বল সুন্দরী ফল চাষ করে ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। দূর দূরান্ত থেকে অনেক বেকার লোকজন এসে দেখছেন এবং বিষয়ে নানা পরামর্শ তার কাছ থেকে নিচ্ছেন।
কৃষক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ধান ও শাকসবজি চাষাবাদের পাশাপাশি তার একটি মাছের ঘের রয়েছে। গত চার বছর আগে সেই ঘেরের চারপাশে তিনি আমগাছের চারা রোপণ করেন। পরে বাজারে গিয়ে বল সুন্দরী বরই দেখতে পেয়ে সেটি চাষে তার আগ্রহ জাগে।
ভাবনানুযায়ী ঘেরের পাড়ে রোপণ করা আমগাছের মাঝখানের ফাঁকা পতিত জমিতে অল্পকিছু বল সুন্দরী বরই চারা রোপণ করেন। বছরখানেকের মধ্যেই তাতে সন্তোষজনক ফলন আসলে তিনি পর্যায়ক্রমে ৪৪ শতাংশ জমিতে এই বরইয়ের বাগান করেন। বর্তমানে তার বাগানে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে মোট ৫৫টি বল সুন্দরী বরই গাছ আছে, যা থেকে গত বছর এক লাখ টাকার বড়ই বিক্রি করেছেন এবং এ বছর প্রায় ২ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। প্রথম দিকে তার খরচের হিসাব না থাকলেও গত বছর থেকে প্রতি বছর সব মিলিয়ে মোট ৩০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি। স্বল্প খরচে অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়ায় এখন বরই চাষকেই তিনি মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানান নাসির। প্রথম দিকে তিনি নিজ উদ্যোগে এই বড়ই চাষ শুরু করলেও বর্তমানে উপজেলা কৃষি বিভাগও তাকে প্রণোদনা ও সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষক নাসির উদ্দিনকে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সকল ধরনের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বল সুন্দরী বরই চাষে তার সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরা এর বাগান করতে আগ্রহী হবেন বলে আশা করি।
সারাদেশ: চুনারুঘাটে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সারাদেশ: বেগমগঞ্জে পরিত্যক্ত এলজি উদ্ধার
সারাদেশ: বেগমগঞ্জে ৩৫ মণ জাটকা ইলিশ জব্দ