চায়ের স্বর্গরাজ্য ও পর্যটননগরী হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত শ্রীমঙ্গল উপজেলার চা-বাগানভিত্তিক পর্যটনে যুক্ত হয়েছে এক নতুন রং, এক নতুন অভিজ্ঞতা- ঘোড়ার গাড়ি। সবুজ চা-গাছের সারির ভেতর দিয়ে নিরিবিলি বাগানপথে ধীরে চলা এই ঐতিহ্যবাহী বাহন যেন পর্যটকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় গ্রামীণ জীবনের শান্ত আবহে। আধুনিক যানবাহনের কোলাহল থেকে দূরে, ঘোড়ার গাড়ির নীরব গতিপ্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।
ঘোড়ার গাড়িতে চড়া মানে শুধু ভ্রমণ নয়, এটি এক ধরনের অনুভব। চারপাশে চায়ের সুবাস, মাথার ওপর সবুজের ছায়া আর পথজুড়ে নীরবতা মিলিয়ে তৈরি হয় স্বস্তির এক আলাদা মুহূর্ত।
স্থানীয়দের আশা, এই নতুন সংযোজন চা-বাগানকেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগ্রহ বাড়াবে।
শ্রীমঙ্গল সারাদেশে পরিচিত পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে। চারদিকে চা-বাগান, বনাঞ্চল, হাওর আর পাহাড়ে ঘেরা এই অঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য। এখানে আনারস, লেবু, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা ধরনের ফলের বাগান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের লেবু দেশের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায়ও রপ্তানি হচ্ছে, যা এই এলাকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ৪০টিরও বেশি চা-বাগান। প্রতিটি বাগানই আলাদা সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। পর্যটনের জন্য এখানে এত স্পট রয়েছে যে সবকিছু ভালোভাবে দেখতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন দিনের সময় প্রয়োজন হয়।
চা-বাগানের মাঝে ঘোড়ার গাড়ির এই নতুন যাত্রা শ্রীমঙ্গলের পর্যটন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে- এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।