image

দশমিনার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গোলাপ জলদানি এখন বিলুপ্ত

প্রতিনিধি, দশমিনা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গোলাপ জলদানি এখন বিলুপ্ত গেছে। গোলাপ জলদানি ইতিহাসের পাতা থেকে এখন ম্মৃতির আধার হয়ে গেছে। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই জলদানি দিয়ে গোলাপজল ছিটিয়ে ব্যবহার করা হতো। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের জনপদের প্রভাবশালী ও ধনী লোকরা এই জলদানী ব্যবহার করত। সত্তর কিংবা আশির দশকে গোলাপজল ছিটানোর জন্য এই জলদানীর বিকল্প কিছুই ছিল না। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আবিস্কারের কারনে ঐতিহ্যবাহী পিতলের তৈরি খাঁজকাঁটা গোলাপ জলদানি এখন আর নেই।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়িতে এই গোলাপ জলদানির দেখা মিলত। পিতলের তৈরি এই জলদানিতে ৩টি অংশের মধ্যে নিচের অংশ স্টান্ড হিসেবে, মাঝের অংশ গোলাকার এবং উপরের অংশে খাঁজকাঁটা গোল চাকতিতে ৩ থেকে ৪টি সুক্ষè ছিদ্র থাকে। পিতলের তৈরি এই জলদানি খুলে মাঝের গোল অংশে গোলাপ জল ভরার পর তা ছিটানো হয়। গ্রামীণ জনপদে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও বিয়েসাদি, মিলাদ, মাহফিল কিংবা কুলখানিতে গোলাপজল ছিটিয়ে সুগন্ধ ছড়ানো হয়। বর্তমানে আধুনিকতা ও প্লাস্টিক সামগ্রী এবং অনুষ্ঠানাদি কমে যাওয়ায় পিতলের তৈরি এই জলদানির কদর শেষ হয়ে গেছে। গ্রামের অনুষ্ঠানে জলদানি দিয়ে গোলাপজল ছিটানোর দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ছে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় গোলাপ জলদানির ব্যবহার বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে আধুনিক মেশিনে কম দামের বিভিন্ন উপকরণে তৈরি করার কারণে পিতলের তৈরি জলদানির কোন কদর নেই। আধুনিক মেশিনে সহজেই পণ্য তৈরি করা যায় বিধায় গোলাপ জলদানির ব্যবহার নেই। চাহিদা না থাকায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গোলাপ জলদানি এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উপজেলা থেকে গ্রাম-বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দশমিনা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মী আহাম্মদ ইব্রাহিম অরবিল বলেন, একসময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সুগন্ধির জন্য গোলাপজল ছিটানোর জন্য এই জলদানী ব্যবহার করা হতো। কালের আবর্তে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলা থেকে এই গোলাপ জলদানি এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি